ইসলামী ঐতিহ্য : প্রথম কিস্তি | ওভামির আনজুম
ইসলামী ঐতিহ্য কি? কেন এবং কীভাবে এটি উপেক্ষিত হয়েছে? এই আধুনিক সময়ে এসেও কেন আমাদের ইসলামী ঐতিহ্য প্রয়োজন? ইসলামে ঐক্য এবং বৈচিত্র্যের মূল্য কীরকম এবং কীভাবে এগুলোর অর্জন ও ভারসাম্য বজায় রাখা যায়? এসব প্রশ্নের জবাব আমরা এই সিরিজের ছয়টি পর্বে দেওয়ার চেষ্টা করব।
আধুনিক বিশ্বে অচল ঐতিহ্য
আমরা আধুনিক দুনিয়ায় বাস করি, যেখানে ‘আধুনিকতা’-কে ‘ঐতিহ্যের’ বিপরীত দাঁড় করানো হয়। তবে সবাই সমানভাবে আধুনিক নয়। প্রায়োগিকভাবে দেখলে, যখন ‘আধুনিক’ শব্দ দিয়ে ‘বর্তমানে যা অস্তিত্বশীল’ বা ‘সাম্প্রতিক’ বোঝানো হয়, তখন আধুনিকতা ছাড়া তো অস্তিত্বের আর কোনো উপায়ও নেই। বিগত তিন শতাব্দী ধরে পশ্চিমারা তাদের ‘বর্তমানকে’ তাদের ‘অতীত’ (এবং অন্য সবার বর্তমান ও অতীত) অপেক্ষা অধিকতর উন্নত এবং অনন্য জ্ঞান করে আসছে। এমনকি এই ধারণা পশ্চিমায়নের মাধ্যমে বাকি বিশ্বকেও গেলানো হয়েছে।
এটা এমন এক গল্প যা অ-পশ্চিমারা যে শুধু গ্রহণ করেছে তা-ই নয়; বরং এর ভেতরেই তারা বাঁচার চেষ্টা করেছে। তবে আমাদের সময়ের উভয় সংকটটি হচ্ছে ‘যারা আসলে আধুনিক না, তারা আকুলভাবে আধুনিক হতে চাচ্ছে (কখনোবা আক্ষরিক অর্থে আধুনিকদের সহযোগিতা নিয়েই); অন্যদিকে যারা আধুনিকতার মধ্যে জীবনযাপন করছে, তারা নিজেদের জীবনকে আবিষ্কার করছে খণ্ড-বিখণ্ডতা, অন্তঃসারশূন্যতা, দ্বিধা, অপূর্ণতা ও আশাহীনতার মধ্যে। যেন একইতালে নিরেট পাথুরে দর্শক পৃথিবী নামক গ্রহটিও আজ আধুনিকদের চিৎকার করে বলছে যে, তাদের সময় শেষ হয়ে এসেছে। তাদের ঝুলিতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
অতএব, আমাদের এখন উচিত, মুসলিমরা যে এই কথিত ‘আধুনিকতা’ আর প্রগতি আনেনি— তা নিয়ে অতিশয় আক্ষেপ না করে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া করা। আক্ষেপ করার যদি আসলেই কিছু থাকে, তাহলে তা হওয়া উচিত— আল্লাহর সাথে করা আমাদের ওয়াদা রক্ষা করতে না পারা, তাঁর পরীক্ষায় অটল-অবিচল না থাকা এবং আরো অধিক প্রচেষ্টা না চালানোর জন্য। এখন আক্ষেপ বা বিলাপের নয় বরং সামনে আগানোর সময়। সময় এখন ইসলামের দিকে পূর্ণভাবে ফিরে যাওয়ার এবং ইসলামকে এর অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতসহ পূর্ণভাবে যাপন করার। ইসলামী ঐতিহ্য তো আমাদের এটাই বলে!
এই নিবন্ধের মাধ্যমে আমি অবস্থা, জ্ঞানের স্তর, পেশা বা আদর্শ নির্বিশেষে আল্লাহর ওপর ঈমান আনা সকল মুসলমানকে আহ্বান জানাতে চাই— ইসলামী ঐতিহ্যকে সানন্দে গুরুত্ব ও অঙ্গীকারের সাথে গ্রহণ করে নেওয়ার। ইসলামী ঐতিহ্য অবশ্যই এর গুরুত্ব ও অঙ্গীকার পাওয়ার যোগ্য। এটা হচ্ছে সে ইসলাম, যা মূলত নবী কারীম (সা)-এর ঐতিহ্যের সংরক্ষিত ও পূর্ণাঙ্গ রূপ এবং শরীয়াহ হচ্ছে যার অন্তঃসার। আসলে বর্তমান সময়ের অধিকাংশ নিয়মিত নামাজ-রোজা করা ধার্মিক মুসলিমরা– যাদের মধ্যে অনেক আলেম ও বিখ্যাত ব্যক্তিও আছেন— ভালোভাবে শরীয়ত অনুসরণ করেন না এবং সগীরা গুনাহর বাইরেও নিয়মিত এমন অনেক জীবনসিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, যা শরীয়তের বিরুদ্ধে যায় বলে তারা জ্ঞাত আছেন এবং যা চাইলেই তারা এড়াতে পারেন।
সংখ্যায় অতি নগণ্য হলেও এমন আলেম এখনও আছেন, যাঁদের জ্ঞানভাণ্ডার আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভালোবাসাযুক্ত ভীতিতে বিকশিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন—
“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই (জ্ঞানীরা) আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি বেশি ভয় করে।” সূরা ফাতির : ২৮
আর কথিত ‘গুড মুসলিমরা’ যখন পিছিয়ে পড়ে, তখন তারা সংশয়ে আবিষ্ট বা দুর্বল মুসলমানদেরকেও ইসলামের ঐতিহ্য থেকে দূরে ঠেলে দেয়।
ইসলামী ঐতিহ্য, আমাদের আলেমদের শত শত বছরের সম্মিলিত পুঞ্জীভূত অর্জন
মুসলিমরা একটি মহান ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। এই ঐতিহ্য ছিল চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিক দিয়ে মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রচেষ্টার ফলাফল। এই চূড়ান্ত লক্ষ্যটি হল আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। এছাড়াও এই ঐতিহ্য তার ঐশ্বর্য, বৈচিত্র্য, এবং জটিলতার দিক থেকেও বিস্ময়কর। উল্লেখ্য যে, ইসলামী ঐতিহ্যকে “মানবিক প্রচেষ্টা” বলছি, কারণ এই ঐতিহ্য কেবল ইসলামের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ ঐশী বাণী কোরআন ও নববী শিক্ষা তথা হাদীস নিয়ে গঠিত নয়, এর পাশাপাশি যুগে যুগে মুসলিম পণ্ডিত এবং জ্ঞানী ব্যক্তিদের জ্ঞানও এই ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত।
এই পার্থক্যটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কুরআন ও নববী শিক্ষাকে চ্যালেঞ্জ করে কেউ মুসলমান থাকতে পারে না। অন্যদিকে বর্তমান যুগে অনেক মুসলিম দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইসলামী ঐতিহ্য এবং ইসলামী ঐতিহ্যগত শিক্ষার মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, কিন্তু তারা কোরআন ও হাদীস নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলছে না।
এ ধরনের অধিকাংশ ধার্মিক মুসলমানই খোলাখুলিভাবে বলে না যে, ইসলামী ঐতিহ্যের কোনো মূল্য তাদের কাছে নেই। কিন্তু তারা তাদের কাজের মাধ্যমে তা দেখিয়ে থাকে। আমাদের মুসলিম সমাজগুলোতে এই ধরনের আপাতঃ ধার্মিক এবং নিয়মিত মসজিদগামী মুসলমানদের দেখা পাওয়া যায় (এদের অনেকেরই আবার নিজ সন্তানদের কোরআন মুখস্থ করানোর ব্যাপারে প্রচণ্ড আগ্রহ থাকে), নাম ধরে ধরে যাদের তালিকাও বানানো যাবে। কিন্তু মানবতার ভবিষ্যত কল্যাণের জন্য ইসলামী ঐতিহ্য অধ্যয়ন বা এতে বিনিয়োগ অথবা সহায়তা প্রদান কিংবা ইসলামী ঐতিহ্য গুরুত্বের সাথে অধ্যয়ন ও বিকাশে নিজ সন্তানদের অনুপ্রাণিত করার কোনো চিন্তাই তাদের মধ্যে নেই। ইসলামী ঐতিহ্যের ব্যাপারে তাদের প্রকৃত অঙ্গীকার আদতে শূন্যের কোঠায়।
আরো খোলাসা করে বলতে গেলে, আমি যখন মুসলমানদের বলি যে, আমি ইসলাম পড়াই এবং এ বিষয়ে গবেষণা করি, তারা আমাকে সম্মান করে। কিন্তু তারা এটাও ধরে নেয় যে, আমি এর বাইরে আর কিছু করতে পারব না। কিন্তু আমি যখন তাদের বলি, আমার নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, কম্পিউটার সাইন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সমাজ বিজ্ঞানে ডিগ্রি আছে, তখন তাদের চোখ বড় হয়ে যায়। তারা কখনো কখনো সরাসরিই বলে ফেলে: “ভাই, আপনার এটা আগেই বলা উচিত ছিল। আমরা ভাবছিলাম...।” অধিকাংশ সময় এভাবেই আমরা চিন্তা করে থাকি। এটা আসলেই দুঃখজনক।
ইসলামী ঐতিহ্যের ব্যাপারে আমাদের আচরণ যেমন হওয়া উচিত
আমাদের সময়ে ইসলামের ধর্মীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংকটের মূলে যে সমস্যা, তা নিরূপণ করে নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে প্রধান যে প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের দিতে হবে সেগুলো হচ্ছে— মুসলমানদের কী কুরআন ও হাদীসের বাইরে ইসলামের অতীত জ্ঞানের ঐতিহ্য থেকে শেখার প্রয়োজন আছে? যদি তা-ই হয়, তাহলে আমাদের জ্ঞানের এই ঐতিহ্যকে কীভাবে গ্রহণ করা উচিত? আমাদের কী এটাকে উপকারী উদ্ধৃতি, ঘটনা এবং ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের খনি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, যেখান থেকে আমরা আমাদের মনমতো বেছে নিতে পারি? নাকি আমাদের উচিত ইসলামী ঐতিহ্যের মধ্যে অবস্থিত অনেক গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে যেকোনো নির্দিষ্ট একটির প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করা এবং বাকিগুলিকে উপেক্ষা করা? নাকি অন্য কোনো উপায়ও আছে?
বেশিরভাগ মুসলমান পুরোপুরি বুঝতে বা উপলব্ধি না করলেও কুরআনের সাথে পরিচিত, এবং অনেকে কিছু হাদীস এবং সীরাতও (আল্লাহর রাসূলের সা. জীবনী) জানেন। যারা আরেকটু জ্ঞানপিপাসী, তাদের কেউ কেউ হয়তো খোলাফায়ে রাশেদা (সঠিক পথনির্দেশক খলিফা) এবং নবী (সা)-এর অন্যান্য সাহাবীদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) জীবন ও কৃতিত্ব সম্পর্কেও জানেন।
কিন্তু সাহাবাগণের পর মুসলমানরা ১৪০০ বছর ধরে কীভাবে ইসলাম পালন ও অনুধাবন করেছ, সে সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের মধ্যে একটি বড়ো ফাঁক রয়ে গিয়েছে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমাদের ঐতিহ্যের হৃদপিণ্ড অর্থাৎ কোরআন ও সুন্নাহকে যে জীবন দিয়ে হলেও হিফাজত করতে হবে এবং অনুসরণ করতে হবে— তা ঈমানদারদের কাছে সুস্পষ্ট। কিন্তু অনেক সদুদ্দেশ্যসম্পন্ন মুসলমানও আজ ভুলে গেছে যে, ঐতিহ্যের হৃদপিণ্ডকে রক্ষা করতে হলে আমাদের ঐতিহ্যের সেসব অঙ্গকেও রক্ষা করতে হবে, যা এই হৃদপিণ্ডে রক্ত চালিত করে এবং তা থেকে রক্ত বাকি দেহে চালিত করে। অন্য কথায় বললে, ইতিহাসে ইসলামী ঐতিহ্যের চৌদ্দশ বছরের সিলসিলাকে আমাদের রক্ষা করতে হবে এবং একে সমালোচনামূলক পদ্ধতিতে (critically) অধ্যয়ন করতে হবে।
কুরআন ও সুন্নাহর সংরক্ষকদের সংরক্ষণ করা
নিঃসন্দেহে ইসলামী ঐতিহ্যের প্রধানতম অর্জন হলো সময়ের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েও আল্লাহর বাণী, তাঁর রাসুলের(ﷺ) শিক্ষা এবং তাঁর রাসুলের সাহাবীদের আদর্শস্থাপনকারী আমলসমূহ সংরক্ষণ করে রাখা। আমি এই তিনটিকে একসাথে ইসলামী ঐতিহ্যের হৃদপিণ্ড হিসেবে অভিহিত করব।
গুরুত্বের দিক দিয়ে পরবর্তী স্থানেই আসে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিশ্বাসীদের মধ্যকার সেরা ব্যক্তিগণ ইসলামী জীবনযাপনের মিশন হিসেবে যে শিক্ষাদান, নির্দেশনা প্রদান এবং পারস্পরিক সংশোধন প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন, তার সংরক্ষিত রূপ। ইসলামী ঐতিহ্যের এই অভিভাবকগণ হলেন— গত চৌদ্দশো বছর ধরে ইসলামী বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন জাতি ও ভাষাভাষী গোষ্ঠী থেকে উঠে আসা বিভিন্ন শাস্ত্রের মুসলিম পন্ডিতগণ এবং তাঁদের সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষকবৃন্দ।
আমাদের ঐতিহ্যের হৃদয় (কোরআন ও সুন্নাহ) বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি— যেমন: কোরআন নাযিলের সময়কার ভাষা, সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং পুরো চিন্তাজগত যা কুরআনে অনুমিত– এই চৌদ্দশো বছরের সময়কালে সংরক্ষণ এবং বিকশিত করা হয়েছে। কেউ কেউ আপত্তি জানিয়ে বলতে পারেন, আমাদের শুধু কুরআন এবং সুন্নাহ হলেই চলবে। তবে এটি হবে সম্পূর্ণ অজ্ঞতাপ্রসূত মন্তব্য, কারণ কেউ ইসলামী ঐতিহ্য (বা জ্ঞানের যেকোনো শাখা) সম্পর্কে সামান্য জানলেও বুঝবেন যে, শতাব্দী ধরে বিকশিত হওয়া ব্যাখ্যাশাস্ত্র (তাফসীর ও শরাহ), আইনশাস্ত্র (ফিক্বহ), হাদীসের মান পর্যালোচনা, আরবি ব্যাকরণশাস্ত্র ইত্যাদি ছাড়া কুরআনের কোনো উচ্চতর মর্মার্থ দূরে থাক, ভাষা বোঝাও সম্ভব নয়।
আমাদের ঐতিহ্যের সংরক্ষিত হৃদয়কে তুলে ধরা
এছাড়াও পরিপক্বতা এবং অভিজ্ঞতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তা’আলা নবীর (সা.) প্রথম অনুসারীদের শিক্ষা দিয়েছিলেন— পূর্ববর্তী “মুসলিম” সম্প্রদায়সমূহ, বিশেষ করে বনি ইসরায়েলের ইতিহাস এবং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে, যাতে তাঁরা আল্লাহর ওহীমাফিক জীবনযাপনের মূর্ত ধারণা পেতে পারে। একইভাবে, আমাদেরও ইতিহাস থেকে শিখতে হবে অতীতে মুসলিম উম্মাহ কতটুকু তাদের দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছে, কীভাবে মুসলমানদের বিভিন্ন গোষ্ঠী সফলতা লাভ করেছে এবং কোন কোন দিকে আমাদের আরো উন্নতি করতে হবে।
আসমানী রিসালাতের প্রকৃত অর্থ ও তাৎপর্য বোঝা এবং তা অনুসরণ করার জন্য এই চলমান, সমৃদ্ধ ও কঠোর প্রচেষ্টার মধ্যে বাইরের ও ভিতরের উভয় দিক থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়াও অন্তর্ভুক্ত। অতীতে বহিরাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তি করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে স্থায়ী পার্থক্য দেখা দেয়, যার ফলে ইসলামী ঐতিহ্যের মধ্যে বিভিন্ন মাযহাব এবং ফেরকা (sect) গঠিত হয়। এই “ইখতিলাফ” বা বৈচিত্র্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ হলো— সেই নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পরীক্ষার অংশ, যা আল্লাহ ঈমানদার হিসাবে আমাদের দিয়েছেন।
বর্তমানকালের মুসলিমদের ইসলামী ঐতিহ্যকে অবহেলা করার ব্যাপারে কিছু কথা
আন্তরিকভাবে ইসলামী জীবনযাপনের কথা বলা সহজ, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা অনেক বেশি কঠিন। এক্ষেত্রে মুসলমানদের আজ ইসলামী ঐতিহ্যকে অবহেলা করার দুটি প্রধান কারণ সম্পর্কে আমি কথা বলতে চাই ।
এই অবহেলার প্রধান কারণ হলো ইসলামী ঐতিহ্যের অভ্যন্তরীণ দুটি শত্রু, যাকে আমি নিশাপুর এবং উমাইয়া সিন্ড্রোম বলি। নিশাপুর সিন্ড্রোম হচ্ছে— ঐতিহ্যের মধ্যে বহুবিস্তৃত মতবিরোধ, যা কখনো কখনো চরম ফেরকাবাজির দিকে পরিচালিত করে। অন্যদিকে, উমাইয়া সিন্ড্রোম হচ্ছে— ইসলামের মৌলিক ও সুনির্দিষ্ট আক্বীদা বিশ্বাস, মূলনীতি এবং সীমার প্রতি মনোযোগ না দিয়েই ঐক্য বা সম্প্রীতির দিকে এক অন্তঃসারশূণ্য আহবান।
মুসলমানরা ইসলামী ঐতিহ্যকে অবহেলা করার দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো— আধুনিকতা এবং “প্রগতির” অলীক সুরত, যা কেবল ইসলামের বিরুদ্ধে নয়, বিজ্ঞান ও যুক্তির বিরুদ্ধেও যায়। ইসলামও কিন্তু বিজ্ঞান এবং যুক্তিকে তাদের সঠিক বুঝে গ্রহণ করতে আমাদের আহবান করে।
ইসলামী ঐতিহ্য কীভাবে অবহেলাকরণের পর্যায়ে এলো, তার কারণগুলি নিয়ে আমরা নিবন্ধের দ্বিতীয় পর্বে আরো বিষদভাবে বলব ইনশা আল্লাহ।
মূল লেখা: Islamic Tradition (1) | Dr. Uwaymir Anjum
তরজমা করেছেন সিদ্দিকে আকবর।