বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যাপারে কার্ল পপারের দৃষ্টিভঙ্গি কি সন্তোষজনক? | হামজা জর্জিস
(অনেকে এই ভুল ধারণা পোষণ করতে পারেন যে, বিজ্ঞানের কাজ হলো প্রচুর তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করে কোনো কিছুকে ‘ধ্রুব সত্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক স্যার কার্ল পপার এই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তার মতে, বিজ্ঞানের শক্তি কোনো কিছুকে চূড়ান্ত সত্য প্রমাণ করার মধ্যে নয়, বরং কোনো তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করার বা ‘খণ্ডন’ করার সাহসের মধ্যে নিহিত। একটি দাবি তখনই বৈজ্ঞানিক হয়ে ওঠে, যখন সেটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ভুল প্রমাণ করার সুযোগ উন্মুক্ত থাকে।
এই নিবন্ধে পপারের সেই বৈপ্লবিক ‘খণ্ডনযোগ্যতা’ (Falsifiability) এবং ‘আরোহ পদ্ধতির’ (Induction) সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিজ্ঞান কীভাবে প্রতিনিয়ত নিজের ভুলগুলো সংশোধন করে সামনের দিকে এগিয়ে যায় এবং কেন কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকেই শতভাগ নিশ্চিত বলে দাবি করা যায় না—সেই গূঢ় দার্শনিক আলাপটিই এখানে সহজভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। বিজ্ঞান এবং ছদ্ম-বিজ্ঞানের (Pseudo-science) মধ্যকার সূক্ষ্ম দেয়ালটি বুঝতে লেখাটি অত্যন্ত সহায়ক হবে। — অনুবাদক)
অন্যান্য দার্শনিকদের মতোই স্যার কার্ল পপারও বিজ্ঞান আর ছদ্ম-বিজ্ঞান (pseudo-science) এর মধ্যে স্পষ্ট একটা সীমারেখা টানার চেষ্টা করেছিলেন (Popper 2002, 344)। প্রচলিত বিজ্ঞানচর্চার যে ধারা তখন প্রচলিত ছিল, যেখানে বলা হত বিজ্ঞান মূলত আরোহ পদ্ধতির (induction) উপর নির্ভর করে, পপার তাতে একদমই সন্তুষ্ট ছিলেন না (Popper 2002b, 3-7)। তিনি হিউমের সাথে একমত ছিলেন যে, সীমিত সংখ্যক অভিজ্ঞতা থেকে কোনো অদেখা বিষয়ের ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় (Hume 2002, 298-310)।
পপার হিউমের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিধ্বনিত করে বলেছিলেন,
‘যৌক্তিকভাবে চিন্তা করলে এটা মোটেও স্পষ্ট নয় যে, আমরা নির্দিষ্ট কিছু ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে সার্বজনীন সিদ্ধান্ত টানতে পারি, সেই পর্যবেক্ষণ যত বারই হোক না কেন। কারণ, এইভাবে পাওয়া যে কোনো সিদ্ধান্তই ভুল হতে পারে: আমরা যতবারই সাদা রাজহাঁস দেখি না কেন, তা থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে, পৃথিবীর সব রাজহাঁসই সাদা।’ (Popper 2002b, 4)
হিউম শুধু এটুকুই বলেননি যে আরোহ পদ্ধতি অনিশ্চিত, বরং তিনি সরাসরি বলেছেন, আরোহ পদ্ধতি কোনোভাবেই যৌক্তিকভাবে ন্যায়সঙ্গত নয়। আরোহ পদ্ধতির ভিত্তিতে গঠিত যুক্তি সাধারণত এই ধারণার উপর দাঁড়িয়ে থাকে যে প্রকৃতি সবসময় একই নিয়মে চলে, বা সহজ ভাষায়, ‘ভবিষ্যৎ অতীতের মতোই হবে’ (Hume 2002, 305)। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই ধারণাটাকে প্রমাণ করার একমাত্র উপায় হলো আবার আরোহ পদ্ধতিকেই ব্যবহার করা।
পপার হিউমের অবস্থানের প্রতিফলন করে বলেন, যদি আরোহ পদ্ধতিকে যৌক্তিকভাবে ন্যায়সঙ্গত করতে হয়, তাহলে আমাদের আবার আরোহ পদ্ধতির উপসংহারকেই ব্যবহার করতে হবে (Popper 2002b, 5)। হিউম বলেন, এটা আসলে একধরনের চক্রাকার (circular) যুক্তি, কারণ এখানে যা প্রমাণ করতে চাওয়া হচ্ছে, তার ভিত্তিই সেই একই জিনিস। অর্থাৎ, আরোহ পদ্ধতিকে ন্যায়সঙ্গত করতে গিয়ে আমরা তাকেই ব্যবহার করছি! কিন্তু সমস্যা হলো, প্রকৃতি যে সবসময় একরকমই থাকবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই (Hume 2002, 304-305)।
পপারের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ধারণা
পপারের পদ্ধতিকে ‘প্রকল্পিত অবরোহী’’ (hypothetico-deductive) পদ্ধতির এক ধরনের প্রতি-আরোহী (anti-inductivist) সংস্করণ’ বলা যেতে পারে (Sankey 2010, 253)। তার মডেল মূলত দুটি ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপে আসে খণ্ডনযোগ্যতা (falsifiability), যেখানে একটি পরীক্ষাযোগ্য অনুমান (hypothesis) তৈরি করা হয় যা পর্যবেক্ষণযোগ্য তথ্যকে ব্যাখ্যা করতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে আসে খণ্ডন (falsification), যেখানে অনুমানটির পরীক্ষা করা হয় এমন তথ্য খুঁজে বের করার মাধ্যমে, যা এটি ব্যাখ্যা করতে পারে না। এই মডেলের মূলকথা, অনুমানকে সমর্থন করে এমন তথ্য দিয়ে এটিকে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণ করা নয়; বরং এমন তথ্য খুঁজে বের করা যা অনুমানটিকে ভুল প্রমাণ করতে পারে। যদি এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় যা অনুমানটি ব্যাখ্যা করতে পারে না, তাহলে অনুমানটি বাতিল করতে হবে এবং এমন একটি নতুন অনুমান গ্রহণ করতে হবে যা সেই নতুন তথ্যকে সামগ্রিকতার সাথে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। পপার যুক্তি দেন যে, এই মডেলটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহারিতাকে আরো বেশি নিখুঁতভাবে প্রতিফলিত করে এবং এটি আমাদের অবরোহী যুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জনের একটি উপায় হিসেবে কাজ করে। তার এই ধারণাকে অনেক সময় অবরোহবাদ (deductivism) বলা হয়, যা তিনি নিজেও তার পদ্ধতিকে আখ্যায়িত করতে গিয়ে ব্যবহার করেছিলেন (Sankey 2010, 253-254; Popper 2002b, 7)।
খণ্ডনযোগ্যতা (Falsifiability)
পপার জানতেন যে তিনি আরোহ পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান করায় তার বিরোধীরা বলবে যে, তিনি বিজ্ঞান ও অতীন্দ্রিয় চিন্তাভাবনার (metaphysical speculation) মধ্যকার সীমারেখা সরিয়ে দিয়েছেন (Popper 2002b, 11)। এর জবাবে তিনি বলেন, আরোহ পদ্ধতি কোনোভাবেই ‘এই সীমারেখা নির্ধারণের (criterion of demarcation) সঠিক মাপকাঠি দিতে পারে না’ (Popper 2002b, 11)। তিনি দাবি করেন যে, খণ্ডনযোগ্যতাই সীমারেখা নির্ধারণের উপায় হওয়া উচিত (Popper 2002, 345; Popper 2002b, 18)। পপারের মতে, শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণযোগ্য তথ্য জমা করে অনুমানসমূহকে (hypotheses) সমর্থন করার উপর বিজ্ঞানের দৃষ্টিনিবদ্ধ হওয়া উচিত নয় কারণ অভিজ্ঞতালব্ধ প্রমাণাদির পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন তা দিয়ে কোন তত্ত্বকে সত্য প্রমাণ করা অসম্ভব। বরং বিজ্ঞানকে এমন প্রমাণ খুঁজতে হবে যা এর অনুমানসমূহের দাবীর বিরুদ্ধে যায় (Rosenberg 2012, 207)। পপারের সীমারেখার ধারণাটির ভিত্তি ছিল প্রতিপাদন (confirmation or verification) ও খন্ডনের (falsification) মধ্যকার যৌক্তিক অপ্রতিসাম্য। আরোহ পদ্ধতির অন্তর্নিহিত সীমাবদ্ধতার কারণে সসীম সংখ্যক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কোনো অনুমান বা তত্ত্বকে প্রতিপাদন করা অসম্ভব। তবে, যদি একটি মাত্র পর্যবেক্ষণও কোনো অনুমান বা তত্ত্বের বিপরীত যায়, তাহলে তা সেই তত্ত্বকে নিশ্চিতভাবে মিথ্যা প্রমাণ করে।
পপারের মতে, একটি বৈজ্ঞানিক দাবিকে বৈধ বলা যাবে কেবল তখনই, যখন সেটি খণ্ডনযোগ্য। তিনি বলেন, ‘যেকোনো তত্ত্বকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে খণ্ডন করার সম্ভাবনাই সব অভিজ্ঞতামূলক (empirical) পরীক্ষার ভিত্তি’ (Popper 2002, 192)। তাই, খণ্ডনযোগ্যতার একটি আবশ্যকতা হলো, কোন বৈজ্ঞানিক অনুমানকে অভিজ্ঞতার জগত সম্পর্কে কোন তথ্য বহন করতে হলে সেটিকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংঘর্ষে যাওয়ার মত সক্ষম হতে হবে (Popper 2002b, 313-314)। এর অর্থ দাঁড়ায়, খন্ডনযোগ্যতার ধারণা অনুযায়ী, কোন বৈজ্ঞানিক অনুমানকে অবশ্যই পরীক্ষাযোগ্য হতে হবে।
অগ্রাধিকারযোগ্য তত্ত্ব
পপার মনে করেন যে বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও বিকাশই একে যৌক্তিক ও পরীক্ষামূলক চরিত্র প্রদান করেছে (Popper 2002, 291)। তার মতে, বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও বিকাশের প্রকৃতি এমন যে, বিজ্ঞানীরা বিদ্যমান বিভিন্ন তত্ত্বের মধ্যে যাচাই বাছাই করে সেরা তত্ত্বটি বেছে নেন (Popper 2002, 291)। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, তাঁর এই ধারণাটিকে যেন ‘অগ্রগতির ঐতিহাসিক নিয়ম’ (historical law of progress) হিসেবে ভুল না বোঝা হয় (Popper 2002, 293)। বরং, তাঁর ধারণাটির তাৎপর্য্য এই যে, আমরা বিজ্ঞানে আমাদের ভুল-ত্রুটি থেকে শিখতে পারি (Popper 2002, 293)।
পপারের মতে, বিজ্ঞানীদের উচিত সাহসী দূরকল্পী তত্ত্ব উপস্থাপন করা (Sankey 2010, 253)। তিনি বলেন, ‘সম্ভাব্য অগ্রগামী’ হতে হলে একটি তত্ত্বকে তথ্যবহুল হতে হবে, যার মানে হলো সেটিকে অধিকতর পর্যবেক্ষণযোগ্য তথ্য বা উপাদান বহন করতে হবে (Popper 2002, 294)। তত্ত্বের অবশ্যই অধিকতর ব্যাখ্যামূলক ও পূর্বাভাস দেওয়ার শক্তি থাকতে হবে, যাতে এটিকে আরো কঠোর পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা যায় (Popper 2002, 294)।
খণ্ডন (Falsification)
পপার খণ্ডনযোগ্যতা (falsifiability) এবং খণ্ডন (falsification) এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন (Popper 2002b, 66)। খণ্ডনযোগ্যতার অর্থ হলো, বৈজ্ঞানিক যে কোনো বিবৃতি খন্ডনযোগ্য অন্যকথায় পরীক্ষাযোগ্য হতে হবে। আর খণ্ডনের অর্থ হলো, যদি কোনো অনুমান বলে দেয় যে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একটি নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটবে, এবং বাস্তবে সেই ঘটনা না ঘটে, তাহলে সেই অনুমান মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে।
অবরোহীভাবে বৈধ (Deductively Valid)
কোন অনুমানের (hypothesis) পর্যবেক্ষণমূলক তাৎপর্য্য সত্য হয় কিনা সেটাকে যাচাই করার মাধ্যমে ঐ অনুমানকে পরীক্ষা করার যে যুক্তিকাঠামো সেটার একটা উত্তম প্রতিরূপ হিসেবে পপার মডাস টলেন্স (modus tollens, MT) নামক যুক্তিতর্কের একটি বিশেষ রূপকে বিবেচনা করেছেন (Sober 2008, 129)। এই যুক্তিতর্কের সাধারণ কাঠামো হচ্ছে:
· যদি H সত্য হয়, তবে O ঘটবে।
· কিন্তু O ঘটে নি।
· তাহলে H সত্য নয়।
এর মানে এই নয় যে, কোন অনুমানের কোন পূর্বাভাস যদি সত্য হয় তাহলে সেই অনুমান সত্য। এই ধরনের যুক্তিতর্ক বরং ‘পরিণামের স্বীকৃতি’ (affirming the consequent, FAC) নামক ভ্রান্তিতে আপতিত হয়, যা অবরোহীভাবে ভুল (Sober 2008, 129)। এই ধরনের যুক্তিতর্কের সাধারণ কাঠামো হচ্ছে:
· যদি H সত্য হয়, তবে O ঘটবে।
· O ঘটেছে।
· তাহলে H সত্য।
যেহেতু, মডাস টলেন্স (modus tollens) অবরোহীভাবে সঠিক এবং ‘পরিণামের স্বীকৃতি’ (affirming the consequent, FAC) অবরোহীভাবে ভুল, পপার বলেন, তত্ত্বকে মিথ্যা প্রমাণ করা যায় কিন্তু একে সত্য প্রমাণ করা যায় না (Sober 2008, 129)।
নিম্নের উদাহরণটি বিবেচনা করা যাক:
· সব ভেড়াই সাদা।
· ইউরোপে কিছু কালো ভেড়া রয়েছে।
· অতএব, সব ভেড়া সাদা নয়।
এই উপসংহারটি যৌক্তিকভাবে বৈধ, কারণ তা প্রতিজ্ঞাগুলো থেকে অপরিহার্যভাবে উদ্ভূত। এই যুক্তিতর্ক একটি অনুমান (সব ভেড়াই সাদা) থেকে শুরু হয় এবং সেটি ভুল প্রমাণিত হয় (ইউরোপে কিছু কালো ভেড়া আছে)। ফলে উপসংহারটি (সব ভেড়া সাদা নয়) অপরিহার্যভাবে প্রতিজ্ঞাগুলোর অনুবর্তী। কোনো অনুমানকে সত্য প্রমাণ করা সম্ভব নয়, তবে এটিকে ভুল প্রমাণ করা সম্ভব। যুক্তিতর্কের এই মডেল অনুযায়ী, সসীম সংখ্যক পর্যবেক্ষণ থেকে যে সাধারণীকৃত সিদ্ধান্তে পৌঁছা হয়, সেই সিদ্ধান্তের ভুল খোঁজার চেষ্টা করা হয়। এর ফলে কেবল কোন কিছু ভুল বা মিথ্যা হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব কিন্তু কোন কিছুর সত্যতার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
সমর্থন (Corroboration)
পপার আরোহ পদ্ধতিকে বাতিল করা মানে এই না যে, কোন তত্ত্ব গ্রহণ করার কোন উপায় নেই। তিনি বলেন, তত্ত্বগুলো আসলে ‘সত্য বিবৃতি’ (true statements) নয়, বরং ‘অস্থায়ী অনুমান’ (provisional conjectures) (Popper 2002b, 264)। তাঁর মতে, কোনো তত্ত্ব যদি বারবার খন্ডন পরীক্ষায় (falsification test) উত্তীর্ণ হয়, তাহলে সেটির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। কোন তত্ত্বের পক্ষে এই ধরনের অনারোহী (non-inductive) প্রমাণকে তিনি ‘সমর্থন’ (corroboration) হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ‘সমর্থন’ (corroboration) কেবলমাত্র একটি তত্ত্ব কয়টি খন্ডন পরীক্ষা উৎরে গিয়েছে সেটা হিসেব করার মত সরল কোন বিষয় নয় (Popper 2002b, 265), এর মধ্যে তত্ত্বের পরীক্ষাযোগ্যতাও অন্তর্ভুক্ত। অন্য কথায়, একটি তত্ত্ব যত বেশি পরীক্ষাযোগ্য (যাকে খন্ডনযোগ্যতার মাত্রা হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়), তার সমর্থনও (corroboration) তত বেশি। (Popper 2002b, 267)।
একটি তত্ত্বকে কেবল তখনই আরেকটি তত্ত্ব দ্বারা প্রতিস্থাপন করা যাবে যদি নতুন তত্ত্বটি আরো ভালো পরীক্ষাযোগ্য হয় (Popper 2002b, 268)। কোন তত্ত্বের খন্ডনযোগ্যতার মাত্রা (degree of falsifiability) যত বেশী হবে, যত বেশি সংখ্যক খন্ডন পরীক্ষা তা উৎরে যাবে, এর সমর্থনের মাত্রাও (degree of corroboration) তত বেশি হবে। পপার এই সমর্থনের (corrboration) ধারণাকে ‘আধা-আরোহণ’ (quasi-inductive) হিসেবে বর্ণনা করেছেন (Popper 2002b, 276)। তবে তিনি নিশ্চিত করতে চেয়েছেন যাতে এই এই ভুলধারণার সৃষ্টি না হয় যে, তিনি আরোহী পদ্ধতিতে যুক্তিতর্ক করছেন। এজন্য তিনি বলেন, সমর্থন (corroboration) মূলত একটি তত্ত্বের অতীত কার্যকারিতার মূল্যায়ন (Keuth 2005, 114)।
পপারের দৃষ্টিভঙ্গি কি সন্তোষজনক?
সীমারেখা নির্ধারণের সমস্যা
এলিয়ট সোবার যুক্তি দেন যে, পপারের খণ্ডনযোগ্যতা (falsifiability) যদি বিজ্ঞান ও অবিজ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণের মানদণ্ড হয়, তবে কিছু অবৈজ্ঞানিক তত্ত্বও বৈজ্ঞানিক বলে গণ্য হবে। সোবার বলেন, পপারের খণ্ডনযোগ্যতার ধারণা অনুসারে, কিছু সৃষ্টিতত্ত্ববাদী (creationist) দাবি খণ্ডনযোগ্য হওয়ার কারণে বিজ্ঞানসম্মত বলে গণ্য হবে (Sober 2008, 129)। উদাহরণস্বরূপ, ‘একজন ঐশী সত্তা সমস্ত জীবকে তিনটি পা-সহ সৃষ্টি করেছেন’ – এই দাবী সহজেই মিথ্যা সাব্যস্ত হতে পারে, কারণ বাস্তবে প্রাণীদের পায়ের সংখ্যা কম বা বেশি হয়। যেহেতু এই দাবিটি পরীক্ষাযোগ্য তথা খণ্ডনযোগ্য, তাই পপারের সংজ্ঞা অনুসারে এটি একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানীদের বড় অংশই সৃষ্টিতত্ত্বকে অবৈজ্ঞানিক বলে মনে করেন (Hansson 2015)।
হার্বার্ট কিউথ যুক্তি দেন যে, পপারের খণ্ডনযোগ্যতার ধারণা সময়ের ওপর নির্ভরশীল। খন্ডনযোগ্যতার তাৎপর্য হচ্ছে, কোন কিছু পরীক্ষাযোগ্য। কিন্তু আমরা পরীক্ষাযোগ্য এবং অপরীক্ষাযোগ্য অনুমান বা তত্ত্বের মধ্যে কিভাবে ফারাক করা করবো? খন্ডনযোগ্যতা বা পরীক্ষাযোগ্যতার ধারণা কোন নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যমান প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল (Keuth 2005, 43)। উদাহরণস্বরূপ, অতীত ইতিহাসের একটি অনুমানের কথা ধরা যাক যেটা অনুযায়ী, মহাবিশ্বে আরো ছায়াপথ রয়েছে। এই তত্ত্ব ১৯২৩ সালের আগে পরীক্ষা করা সম্ভব ছিল না। এই বছরই এডউইন হাবল টেলিস্কোপের একটি বিশেষ উন্নততর প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্যান্য গ্যালাক্সির অস্তিত্বের পক্ষে প্রমাণ পান। তাই বলা যায়, পপারের ‘সমর্থন’ (corroboration)-এর ধারণা – যার ভিত্তি খন্ডনযোগ্যতার উপর দাঁড়িয়ে আছে - সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে (Keuth 2005, 43)।
নিশ্চিতকরণ (confirmation) কি বাতিল করে দেওয়া যায়?
বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতকরণ (confirmation) পদ্ধতি ব্যবহার করেন একটা তত্ত্বকে আরেকটা তত্ত্বের উপর অগ্রাধিকার দেয়া হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। নিশ্চিতকরণের মূল লক্ষ্য হলো, যখন বলা হয় কোনো তথ্য (ধরা যাক E) কোনো অনুমান (hypothesis) বা তত্ত্ব (H)-কে সমর্থন করে বা নিশ্চিত করে এর মানে কি তা বোঝা (Hajek and Joyce, পৃষ্ঠা 115)। ‘নিশ্চিতকরণ’-এর মূল ধারণার মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:
১. পরম নিশ্চিতকরণ (Absolute confirmation): কোনো প্রমাণ E-এর কারণে কোনো অনুমান H অনেক বেশি সমর্থনযোগ্য।
২. ক্রমান্বয় নিশ্চিতকরণ (Incremental confirmation): কোনো প্রমাণ E কোন অনুমান H-এর সমর্থনযোগ্যতা বৃদ্ধি করে।
(উপরোক্ত ধারণাগুলো Hajek and Joyce 2010, পৃষ্ঠা 115 থেকে নেওয়া।)
উপরোল্লিখিত ধারণায় যে E বা প্রমাণের কথা বলা হয়েছে তা আরোহী পদ্ধতিতে হাসিলকৃত। কিন্তু পপার (Karl Popper) আরোহী পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল করে দেন। তিনি বলেন, কোনো H বা অনুমানকে আপাতদৃষ্টিতে প্রতিপাদন করে এমন যত সংখ্যক E বা প্রমাণই আমরা খুঁজে পাই না কেন, এতে H-যে চূড়ান্তভাবে সত্য তা প্রমাণিত হয় না। পপারের সিদ্ধান্ত হলো: কোনো তত্ত্ব আরেকটি তত্ত্বের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য কিনা তা নিশ্চিতকরণ (confirmation) পদ্ধতিতে নির্ণয় করা যায় না।
তবে মূলধারার বিজ্ঞানচর্চার আলোকে ‘নিশ্চিতকরণ’-এর ব্যাপারে পপারের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে অগ্রহণযোগ্য মনে হয় কারণ অনেক বিজ্ঞানীই বলবেন যে, যদি নিশ্চিতকরণ পদ্ধতি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে ‘যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত ও বিজ্ঞানচর্চা অসম্ভব হয়ে পড়বে’ (Hajek and Joyce 2010, পৃষ্ঠা 115)। পপারের নিশ্চিতকরণ-বিরোধী অবস্থান বাস্তব বিজ্ঞানচর্চার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় কারণ বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতকরণ ব্যবহার করেন। বিজ্ঞানকে ঠিকভাবে বুঝতে হলে নিশ্চিতকরণের যুক্তিকাঠামোকে (logic of confirmation) বুঝতে হবে (Crupi 2015)। এটা আপনি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে সহজেই বুঝতে পারেন। ধরুন, আপনি সুইমিং পুলে ঝাঁপ দিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি পানির মধ্যে ডুবে যাবেন, নাকি টেনিস বলের মতো ওপর দিকে লাফিয়ে উঠবেন? দার্শনিকরা যতই বুদ্ধিবৃত্তিক কসরত দেখাক না কেন, ব্যবহারিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে কিছু তত্ত্ব আছে যেগুলোর ব্যাপারে তেমন সন্দেহের উদ্রেক হয় না — কারণ সেগুলো বহুবার নিশ্চিত হয়েছে। বিজ্ঞান যখন কোনো তত্ত্বকে বহুবার নিশ্চিত করে, তখন সেটা জ্ঞানের অন্যান্য শাখা যেমন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ব্যবহৃত হয়; যেমন—ভবন নির্মাণের সময় ইঞ্জিনিয়াররা পদার্থবিদ্যার বহুবার নিশ্চিত হওয়া আইনগুলো অনুসরণ করেন। অন্যকথায় এসব ব্যবহারিকভাবে সত্য কারণ এগুলো বাস্তব জগতে কার্যকর।
সম্ভাব্যতাবাদী তত্ত্ব (Probabilistic Theories)
পপারের ‘খণ্ডন’ (falsification) ধারণাটি শুধু কিছু অবৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে বৈজ্ঞানিক করে তোলে না, বরং কিছু বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে অবৈজ্ঞানিক হিসেবেও চিহ্নিত করে ফেলে। এই সমস্যাটি বিজ্ঞানের নানা শাখায় বিকশিত সম্ভাব্যতাবাদী তত্ত্বগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায় (Sober 2008, পৃষ্ঠা 130)। বিজ্ঞানে সম্ভাব্যতাবাদী তত্ত্বগুলো কোনো তত্ত্বের অনুমানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করে না কারণ পর্যবেক্ষণমূলক তথ্য-উপাত্ত তথা প্রমাণ কখনোই সরাসরি কোনো তত্ত্বের সত্যতা প্রমাণ করতে পারে না। সম্ভাব্যতার বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে: ক্লাসিকাল ব্যাখ্যা, ফ্রিকোয়েন্সি বা ঘনত্বভিত্তিক ব্যাখ্যা, প্রোপেনসিটি বা প্রবণতা ব্যাখ্যা, লজিকাল বা যৌক্তিক ব্যাখ্যা, সাবজেক্টিভ বা ব্যাক্তিবিচারভিত্তিক ব্যাখ্যা (Galavotti 2010, 417-423)। গালাভোত্তি (Galavotti) বলেন, এই ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে ফ্রিকোয়েন্সি বা ঘনত্বভিত্তিক ব্যাখ্যা এর পর্যবেক্ষণযোগ্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে ‘স্বাভাবিক’ ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে (Galavotti 2010, পৃষ্ঠা 423)।
এই ধরনের তত্ত্বগুলোর ভিত্তি হলো—যত বেশি পর্যবেক্ষণলব্ধ প্রমাণ বা তথ্য কোনো তত্ত্বকে সমর্থন করে, সেই তত্ত্বের সত্য হওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়ে। উদাহরণ হিসেবে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে রোগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘এপিডেমিওলজিক্যাল সম্পর্ক’ (epidemiological relations)-এর ধারণাকে ব্যবহার করা হয় যা সাধারণত পরিসংখ্যান রিপোর্ট আকারে তুলে ধরা হয় (Rosenberg 2012, পৃষ্ঠা 90)। তাই এই ব্যাপারে ঐক্যমত্য আছে যে, ধূমপান করলে ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যদিও আমরা জানি যে পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক সবসময় কারণগত সম্পর্ক (causality) বোঝায় না।
‘সমর্থন’ ধারণার সমস্যা (The Problem of Corroboration)
পপারের ‘corroboration’ বা ‘সমর্থন’ ধারণা কোনো তত্ত্ব কতগুলো পরীক্ষায় উৎরে গিয়েছে এবং তা কোন মাত্রায় খন্ডনযোগ্য (falsifiable) সেটার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কিন্তু যখন একই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার জন্য একাধিক তত্ত্ব বিদ্যমান থাকে এবং তাদের ‘নিশ্চিতকরণ’ মাত্রার মধ্যে ফারাক থাকে – তখন পপারের ‘সমর্থন’ ধারণা সমস্যাজনক হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণত, যে তত্ত্ব বেশি প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত বিজ্ঞানীরা সেটাকেই অন্যান্য তত্ত্বের উপর অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রহণ করে নেন। কিন্তু পপারের ‘সমর্থন’ ধারণা অনুযায়ী, কোন তত্ত্বকে অন্যগুলোর উপর প্রাধান্য দেয়ার ক্ষেত্রে ‘নিশ্চিতকরণ’ (confirmation) কোন মাপকাঠি হতে পারে না। কোন তত্ত্বের পক্ষে যত প্রমাণই থাকুক না কেন, সেটাকে অন্য তত্ত্বগুলোর উপর তখনই প্রাধান্য দেয়া হবে যদি এটি খন্ডন পরীক্ষায় উৎরে যায় এবং এর খন্ডনযোগ্যতার মাত্রা বেশি থাকে।
‘সমর্থন’ (corroboration)-এর ধারণা বাস্তব বিজ্ঞান চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ঊনবিংশ শতকে কলেরা রোগের কারণ নিয়ে দুইটি প্রধান তত্ত্ব ছিল:
1. মিয়াজমা তত্ত্ব (Miasma theory) – যা অনুযায়ী, বাতাসে থাকা বিষাক্ত বস্তু রোগের কারণ।
2. জার্ম তত্ত্ব (Germ theory) – যা অনুযায়ী, রোগের কারণ হলো জীবাণু।
জার্ম তত্ত্বের পক্ষে থাকা পর্যবেক্ষণলব্ধ নিশ্চিত প্রমাণ থাকার পরও পপারপন্থীরা এই তত্ত্বকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করে নিবেন না; আবার মিয়াজমা তত্ত্ব তখনো পুরোপুরি ‘মিথ্যা প্রমাণিত’ হয়নি বিধায় এটাকে তারা জার্ম তত্ত্বের সমান জ্ঞানগত মর্যাদা (epistemic status) দিবেন।
সর্বোত্তম ব্যাখ্যার ভিত্তিতে অনুমান (Inference to the Best Explanation)
বিজ্ঞানীরা যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তার অনেকগুলোই সর্বোত্তম ব্যাখ্যার ভিত্তিতে অনুমান (Inference to the Best Explanation, সংক্ষেপে IBE) এর ওপর ভিত্তি করে নেয়া। IBE-র একই সমস্যা রয়েছে যা আরোহী যুক্তির মধ্যেও রয়েছে—কারণ, নতুন তথ্য আসলে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালোভাবে মোট তথ্যসমষ্টিকে ব্যাখ্যা করে, সেটি পরিবর্তিত হতে পারে। IBE-এর পর্যবেক্ষণভিত্তিক তথ্য কিংবা নেপথ্য জ্ঞানকে (background knowledge) সামগ্রিকতার সাথে ও পর্যাপ্তভাবে ব্যাখ্যাদান করার চেষ্টা করে (Lipton 2004, 56)।
লিপটন বলেন, বৈজ্ঞানিক উপাত্তের একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাখ্যা থাকতে পারে। আমরা তাদের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণের চেষ্টা করি এইভাবে—’আমরা এমন তথ্য খুঁজি যা তাদের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে...একটি অনুমান ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে, যদি কেউ আরও ভালো বিকল্প ব্যাখ্যা হাজির করে, এমনকি প্রমাণ না বদলালেও।’ (Lipton 2004, 64-65)
IBE-এর জন্য আরও কিছু শর্ত রয়েছে। এগুলোর একটি হল, সবচেয়ে সরল ব্যাখ্যাটিই সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা। তবে সরলতা এবং সামগ্রিকতার (comprehensiveness) মধ্যে ভারসাম্য থাকা আবশ্যক। সামগ্রিকতা বলতে বোঝানো হয় এমন একটি ব্যাখ্যা যেন সব উপাত্তকে অন্তর্ভুক্ত করে, এমনকি ব্যতিক্রমধর্মী পর্যবেক্ষণকেও। আরেকটি মূল্যায়নের মানদণ্ড হলো—আমাদের নেপথ্য বিশ্বাস অনুযায়ী, ব্যাখ্যাটি সবচেয়ে সম্ভাব্যভাবে সত্য কিনা (Harman 1965, 88-95)।
পর্যবেক্ষণকৃত তথ্য থেকে সিদ্ধান্ত গঠনের জন্য IBE একটি স্পষ্ট ও অপরিহার্য পদ্ধতি। তবে আমাদের পর্যবেক্ষণ ও উপাত্ত সীমিত হওয়ার কারণে এটা মাথায় রাখা দরকার যে, যেকোনসময় প্রাপ্ত নতুন তথ্য ও পর্যবেক্ষণ প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে কোনটি সর্বোত্তম, সেটি পরিবর্তন করে দিতে পারে। পপারপন্থীদের কাছে IBE গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটি ইনডাকশন বা আরোহী পদ্ধতির উপর প্রতিষ্ঠিত। একজন পপারপন্থী IBE-এর বিরোধিতা করেন কারণ এটি অত্যন্ত ব্যক্তিনির্ভর। তারা কোনো তত্ত্ব, অনুমান বা ব্যাখ্যাকে ‘সম্ভবত সত্য’ বা ‘ভালো’ বলতে রাজি নন। পপারের মতে, অনুমান (hypothesis) হয় খন্ডনকৃত (ভুল প্রমাণিত) হয়, না হয় সমর্থনের (corroboration)-এর একটি মাত্রায় পৌঁছে। এই বিষয়টিই তুলে ধরে যে, পপার-এর দর্শন কীভাবে মূলধারার বিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইনডাকশনের অনুমান (The Assumption of Induction)
Corroboration বা সমর্থন-এর বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আপত্তি হলো—এটি ইনডাকশন (induction) বা আরোহী পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর নির্ভর করে। পপার আরোহী পদ্ধতিকে প্রত্যাখ্যান করলেও, তত্ত্ব গ্রহণ-বর্জনের যে মানদণ্ড তিনি তৈরি করেছেন, তাতে তাঁর অনিচ্ছা সত্ত্বেও আরোহী পদ্ধতির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়। ওয়েসলি স্যালমন এই বিষয়ে একটি শক্তিশালী যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, যখন একজন বিজ্ঞান সমর্থন (corroboration)-এর মাত্রা দেখে একটি তত্ত্বকে আরেকটির চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করেন, তখন সেটি আরোহী পদ্ধতির দিকেই ইঙ্গিত করে। এর কারণ, করোবোরেশন বা সমর্থন বিজ্ঞানীকে ভবিষ্যতে করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশ দেয়—মানে, কোন তত্ত্বটি গ্রহণযোগ্য হবে, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে।
পপার এই আপত্তি সম্পর্কে সচেতন বলেই মনে হয়। তিনি বলেন, আমাদের কোনো তত্ত্বের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। কিন্তু যখন একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী তত্ত্ব থাকে, তখন যেটির করোবোরেশন বা সমর্থন-এর মাত্রা বেশি, সেটিকে গ্রহণ করাই যুক্তিসঙ্গত হবে (Salmon 1981, 121-122)। পরবর্তীতে পপার আরও সমালোচনার জবাবে বলেন, করোবোরেশন-এর মাত্রার সাথে অনুমান বা তত্ত্বের পূর্বাভাসের সম্পর্ক নেই (Salmon 1981, 123)। কিন্তু স্যালমন এর উত্তর দেন এইভাবে—করোবোরেশন-এর মাত্রা আসলে একজন বিজ্ঞানীর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, কারণ সে তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞানী সবচেয়ে সেরা তত্ত্ব বেছে নেয়। এই যুক্তিতে স্যালমন বলেন, করোবোরেশন-এ একটি ইনডাকটিভ ক্ষমতা রয়েছে (Salmon 1981, 123-124)। হাওয়ার্ড স্যাঙ্কি স্যালমনের যুক্তির সারসংক্ষেপ করে বলেন, যেহেতু এক তত্ত্বের স্থলে অন্য তত্ত্ব বেছে নেয়ার ভবিষ্যত ক্রিয়ার ক্ষেত্রে করবোরেশন ব্যবহৃত হয়, তাই এর মানে দাঁড়ায় ‘কোন তত্ত্বের অতীতে বিভিন্ন পরীক্ষায় উৎরে যাওয়ার সফলতা থেকে ভবিষ্যতেও এরকম আরও পরীক্ষায় টিকে যাওয়ার সম্ভাব্য ধারাবাহিক সফলতার অনুমান। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পপারের খন্ডনবাদী বিজ্ঞান দর্শনের ভিত্তি এমন ধারণার উপর, যা আরোহী প্রকৃতির’ (Sankey, 253)।
খন্ডনকৃত (falsified) তত্ত্ব কি সত্যিই ভুল?
যদি আমরা যুক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করি, তাহলে কোনো তত্ত্বকে ‘খন্ডনকৃত’ (falsified) বলা হলেও, সেটিকে আবার উদ্ধার বা রক্ষা করা সম্ভব—তত্ত্বটির সঙ্গে জড়িত সহায়ক পূর্বধারণা (auxiliary assumptions) বা সহায়ক তত্ত্বগুলোকে বিবেচনায় এনে। এই বিষয়টি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন পিয়েরে ডুহেম । তিনি বলেন:
‘ভৌত বিজ্ঞান এমন একটি পদ্ধতি যেটিকে সামগ্রিকভাবে নিতে হয়; এটি একটি জীবন্ত কাঠামো, যেখানে কোনো একটি অংশ কেবল তখনই কাজ করে, যখন সবচেয়ে দূরবর্তী অংশগুলোও সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে—কেউ কম, কেউ বেশি, তবে সবাই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত থাকে।’
— (Duhem 1991, পৃষ্ঠা 187-188)
এই বক্তব্যের একটি স্পষ্ট উদাহরণ হলো গ্রহ নেপচুনের আবিষ্কার। যখন পূর্ব-প্রতিষ্ঠিত নিউটনের গতি ও মহাকর্ষের সূত্র ইউরেনাস গ্রহের কক্ষপথ বিষয়ে সঠিকভাবে পূর্বাভাস করতে পারেনি, তখন বিজ্ঞানীরা শুধু এই ব্যতিক্রম দেখে নিউটনের তত্ত্ব বাতিল করে দেননি। ইউরেনাসের কক্ষপথের ব্যাপারে প্রত্যাশিত ধারণায় এই ব্যাঘাতকে অন্য কোন মহাকাশীয় বস্তুর উপস্থিতি দ্বারা ব্যাখ্যা করা যেত, যার ভর ইউরেনারেসের কক্ষপথকে প্রভাবিত করছে। ১৮৪৫ সালে লে ভারিয়ের ও জন কুচ অ্যাডামস নামক দুজন বিজ্ঞানী এই বিষয়ে নিজেদের গবেষণাগত হিসাব পেশ করেন এবং তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী পরবর্তীতে নতুন গ্রহ নেপচুন আবিষ্কৃত হয়। তবে পপার-এর ফলসিফিকেশন তত্ত্ব অনুসারে, নিউটন-এর তত্ত্ব তখনই বাতিল হয়ে যেত, কারণ তা ইউরেনাসের গতিপথ ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এইভাবে চিন্তা করলে, লা ভারিয়ের ও অ্যাডামস-এর ভবিষ্যদ্বাণীগুলো অবৈজ্ঞানিক বলে গণ্য হতো। কিন্তু বিজ্ঞানীরা তাদের তত্ত্ব বাতিল করেননি; বরং তারা সেই তত্ত্বকেই ধরে রেখেছিলেন এবং সাংঘর্ষিক তথ্যগুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। এই উদাহরণ কোন ব্যতিক্রম নয়। বিজ্ঞানীরা বিদ্যমান কোন তত্ত্বের সাথে কোন নতুন পর্যবেক্ষণের সাথে সংঘাত দেখলেই সেই তত্ত্বকে খারিজ করে দেন না। তারা পুরো তত্ত্বকে বাতিল না করে দিয়ে সকল তথ্য-উপাত্তের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করেন।
সাক্ষ্য (Testimony)
বিজ্ঞান সম্পর্কে পপার (Popper)-এর দৃষ্টিভঙ্গি এর একটি গোপন স্তম্ভকে উপেক্ষা করে। বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে এটা আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, বৈজ্ঞানিকরা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে বোঝাপড়ার জন্য একে অপরের পরীক্ষণ এবং ফলাফলগুলোর উপর নির্ভরশীল হবেন। যদি কোন বিজ্ঞানীকে তাঁর তত্ত্ব অন্য যেসব তত্ত্বের উপর দাঁড়িয়ে আছে সেগুলোর প্রত্যেকটিকে ফলসিফিকেশন বা খণ্ডন পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতে হত তাহলে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বর্তমান যেভাবে দাঁড়িয়ে আছে তা সম্ভব হত না। সহজভাবে বললে, আমরা সবকিছুকে পরীক্ষার সম্মুখীন করতে পারি না। যদি এমন যুক্তি প্রদান করা হয় যে, এ ধরনের পরীক্ষার প্রয়োজন নেই কারণ প্রাসঙ্গিক তত্ত্বটি ইতোমধ্যেই পরীক্ষিত হয়েছে, তাহলে এই যুক্তি ‘সাক্ষ্য’ (testimony)-এর উপর নির্ভরশীল। কারণ একজন বিজ্ঞানীকে এই ক্ষেত্রে অন্য কোনো বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানীদের দল দ্বারা প্রদত্ত সাক্ষ্য (যা লিখিতও হতে পারে) বিশ্বাস করতে হবে নিজে পরীক্ষা করে না দেখেই। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলোর জন্য সাক্ষ্যপ্রমাণ (testimonial evidence) অত্যন্ত মৌলিক। তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাগুলো কোন দার্শনিক শূন্যস্থানে বিদ্যমান নয়; এগুলি অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলির উপর ভিত্তি করে।
সাক্ষ্য (Testimony) হল জ্ঞানতত্ত্বের (epistemology) একটি শাখা যা ‘কীভাবে আমরা অন্যদের বলার উপর ভিত্তি করে জ্ঞান এবং সঙ্গত বিশ্বাস অর্জন করি’ তার সাথে সম্পৃক্ত (McMyler 2011, 3)। সাক্ষ্য ছাড়া বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অসম্ভব। সি এ কোডি ‘সাক্ষ্য’-এর পক্ষে যুক্তি প্রদান করেন এবং হিউম ‘সাক্ষ্য’ ধারণার ব্যাপারে যে অতি সরলীকরণ করেছেন তা নিয়ে আলোচনা করেন (Coady 1992, 79 – 81)। সাক্ষ্য নিয়ে অতিসরলীকরণকারীরা দাবি করে যে, সাক্ষ্যকে পর্যবেক্ষণ (observation)-এর মত জ্ঞানের অন্যান্য উৎসের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণ করতে হয়। সাক্ষ্য-এর অন্তর্নিহিত কোনো ন্যায্যতা নেই এবং এটাকে অভিজ্ঞতার (experience) মাধ্যমে সমর্থিত হতে হয়। তবে, হিউম সাক্ষ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা হয়তো লক্ষ্য করি যে, মানুষের সাক্ষ্য থেকে উদ্ভূত যুক্তিই মানবজীবনের জন্য সবচেয়ে সাধারণ, সবচেয়ে কার্যকর, এবং এমনকি অত্যাবশ্যক’ (Hume 2008, 56-57)। হিউম যুক্তি দেন যে, সাক্ষ্যের উপর আমাদের বিশ্বাস আমাদের অভিজ্ঞতার সাথে সাক্ষ্যজ্ঞান (testimonial knowledge)-এর সামঞ্জস্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে (Hume 2008, 57)। কোডি সাক্ষ্যকে অপরিহার্য হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, সাক্ষ্য অন্য কোনো জ্ঞানের উপর নির্ভর না করেই অন্তর্নিহিতভাবে ন্যায়সঙ্গত। এই বিবরণকে ‘সাক্ষ্য’-এর প্রতি-হ্রাসবাদী (anti-reductionist) তত্ত্ব বলা হয়। কোডি সাক্ষ্য-এর হ্রাসবাদী (reductionist) দৃষ্টিকোণটি ভেঙে দিতে চান।
কোডি যুক্তি দেন যে, হিউমের যুক্তি চক্রাকার (circular)। হিউম দাবি করেন যে, সাক্ষ্য কেবল তখনই ন্যায়সঙ্গত হবে যদি সাক্ষ্যের বিষয়বস্তু পর্যবেক্ষণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। তবে, হিউমের জন্য, পর্যবেক্ষণ কোনো একক ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ নয়, বরং এটি একটি সামষ্টিক অভিজ্ঞতা (collective experience)। কোডি হিউমের এই যুক্তিটি খন্ডন করে এই পাল্টা যুক্তিতে যে, আমরা কেবল অন্যদের সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করেই সামষ্টিক পর্যবেক্ষণ জানতে পারি। এক্ষেত্রে একক পর্যবেক্ষণের উল্লেখ যথেষ্ট না, এবং এর মাধ্যমে তেমন কোনো বৈজ্ঞানিক জ্ঞানও পাওয়া যায় না। অতএব, ‘সাক্ষ্য’-এর হ্রাসবাদী (reductionist) তত্ত্বটি ভুল। সাক্ষ্যের বিষয়বস্তুকে অন্য কোনো জ্ঞানের উৎস যেমন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণ করা যাত না, কারণ এটি সাক্ষ্যকে মৌলিক (fundamental) ধরে নেয়। সামষ্টিক পর্যবেক্ষণকে বিবেচনায় নেয়ার জন্য অন্যদের সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করতে হবে, যেহেতু আমরা তা নিজেরা পর্যবেক্ষণ করিনি। (Coady 1992, 80 – 81)
বিজ্ঞানে একটি তত্ত্ব অন্য তত্ত্বের সাথে ওতোপ্রতভাবে জড়িত। তবে, কোন একক বিজ্ঞানী তার গবেষণার ভিত্তি যে সকল তত্ত্ব বা উপতত্ত্ব তার সবগুলো পরীক্ষা করতে পারে না। তাদের কোনো না কোনো ধরনের সাক্ষ্যপ্রমাণের উপর নির্ভর করতে হয়, এমনকি সেই সাক্ষ্য যদি কোনো সমকক্ষ পর্যালোচিত (peer reviewed) বই বা জার্নালের আকারেও হয়। এতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সাক্ষ্যপ্রমাণ জ্ঞানের একটি মৌলিক উৎস হিসেবে বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। তবে, পপারবাদী বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি সাক্ষ্যপ্রমাণের ন্যায্যতা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম নয়। এটি আরও স্পষ্ট করে বুঝতে একটি কথা চিন্তা করা যাক। বিজ্ঞানীরা সাধারণত তাদের তত্ত্ব বা পরীক্ষাগুলোর নির্ভুলতা নিশ্চিত করার জন্য তাদের গবেষণায় অন্য বিজ্ঞানীদের গবেষণার বরাত দিতে বাধ্য হন—এমনকি যখন তা অন্যান্য ক্ষেত্রের বিজ্ঞানীদের গবেষণাও হয়। অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের উপর এই নির্ভরশীলতা হল এক প্রকার সাক্ষ্যউদ্ভূত জ্ঞান (testimonial knowledge)। এলিজাবেথ ফ্রিকার (Elizabeth Fricker) বলেন,
‘আমার বুদ্ধিবৃত্তিক (cognitive) এবং শারীরিক (physical) সীমাবদ্ধতার কারণে, আমার জন্য অন্যদের কথার উপর বিস্তৃত কিন্তু সতর্কতামূলক বিশ্বাস রাখা এবং এর মাধ্যমে যে ব্যাপক জ্ঞানগত (epistemic) এবং তদ্ভূত অন্যান্য সমৃদ্ধি অর্জিত হয় তা কোনো যৌক্তিক আফসোসের (rational regret) কারণ হতে পারে না।’ (Fricker 2006, 244)
উপসংহার
পপার (Popper)-এর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ভিত্তি হচ্ছে তত্ত্বের খণ্ডনযোগ্যতা (falsifiability) এবং খণ্ডন (falsification)। তত্ত্ব কতটা সমর্থিত (corroborated) হয়েছে, তার ভিত্তিতে এক তত্ত্বকে অন্যটির উপরে প্রাধান্য দেয়া হয়। পপার আরোহী পদ্ধতির সমস্যার কারণে নিশ্চিতকরণের (confirmation) ধারণা বাতিল করেছেন, কিন্তু এক তত্ত্বের উপর আরেক তত্ত্বকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য তিনি সমর্থন (corroboration) ধারণার যে মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন সেটার জন্য আরোহী (inductive) অনুমান প্রয়োজন। পপার-এর দর্শন পথনির্দেশক হিসেবে উপকারী হতে পারে, তবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ক্ষেত্রে পপারের কর্মপদ্ধতির কঠোর অনুসরণ করলে বিজ্ঞানের অনেক সুপ্রতিষ্ঠিত রীতিনীতি ও ধারণাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
হদিস
· Coady, C. A. J. Testimony: A Philosophical Study. নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, 1992।
· Corvi, Roberta. An Introduction to the Thought of Karl Popper. লন্ডন এবং নিউ ইয়র্ক: রাউটলেজ, 1997।
· Crupi, Vincenzo, ‘Confirmation’, The Stanford Encyclopedia of Philosophy (Fall 2015 Edition), Edward N. Zalta (সম্পাদক), URL = http://plato.stanford.edu/archives/fall2015/entries/confirmation/.
· Duhem, Pierre. The Aim and Structure of Physical Theory, 2য় সংস্করণ থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন P. W. Wiener। প্রিন্সটন, NJ: প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস, 1991।
· Fricker, Elizabeth. Testimony and Epistemic Autonomy in The Epistemology of Testimony. Jennifer Lackey এবং Ernest Sosa (সম্পাদক)। ক্লারেনডন প্রেস: অক্সফোর্ড, 2006।
· Galavotti, Maria, ‘Probability’ in The Routledge Companion to Philosophy of Science, Stathis Psillos এবং Martin Curd (সম্পাদক)। (অক্সফোর্ড: রাউটলেজ, 2010)।
· Hajek, Alan এবং Joyce, M. James, ‘Confirmation’ in The Routledge Companion to Philosophy of Science, Stathis Psillos এবং Martin Curd (সম্পাদক)। (অক্সফোর্ড: রাউটলেজ, 2010)।
· Hansson, Sven Ove, ‘Science and Pseudo-Science’, The Stanford Encyclopedia of Philosophy (Spring 2015 Edition), Edward N. Zalta (সম্পাদক), URL = http://plato.stanford.edu/archives/spr2015/entries/pseudo-science/.
· Hilary Putnam. (1979). Mathematics, Matter and Method. In: Mathematics, Matter and Method. [অনলাইন]। 2য় সংস্করণ। ক্যামব্রিজ: ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। উপলব্ধ: ক্যামব্রিজ বুকস অনলাইন http://ebooks.cambridge.org//chapter.jsf?bid=CBO9780511625268&cid=CBO9780511625268 [অ্যাক্সেস 14 এপ্রিল 2016]।
· Hume, David. 2002. ‘Of scepticism with regard to reason’ in Epistemology: Contemporary Readings, Michael Huemer (সম্পাদক), 298-310। রাউটলেজ। মূলত প্রকাশিত: ডেভিড হিউম, ‘Sceptical doubts concerning the operations of understanding’ in An enquiry concerning human understanding, in Enquiries concerning human understanding and concerning the principles of morals, 2য় সংস্করণ, সম্পাদক L.A. Selby-Bigge (অক্সফোর্ড: ক্লারেনডন প্রেস, 1902)।
· Hume, David. 2008. An enquiry concerning human understanding. http://www.earlymoderntexts.com/assets/pdfs/hume1748.pdf।
· Keuth, Herbert. The Philosophy of Karl Popper. ক্যামব্রিজ: ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, 2005।
· Kuhn, Thomas. The Structure of Scientific Revolutions. চতুর্থ সংস্করণ। শিকাগো: ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো প্রেস, 2012।
· Lipton, Peter. Inference to the Best Explanation. দ্বিতীয় সংস্করণ। লন্ডন: রাউটলেজ, 2004।
· McMyler, Benjamin. Testimony, Truth and Authority. অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, 2011।
· Popper, Karl. Conjectures and Refutations. অক্সফোর্ড: রাউটলেজ, 2002।
· Popper, Karl. The Logic of Scientific Discovery. অক্সফোর্ড: রাউটলেজ, 2002b।
· Reichenbach, Hans. 2009. ‘The pragmatic justification of induction’ in Knowledge: Readings in Contemporary Epistemology, Sven Bernecker এবং Fred Dretske (সম্পাদক), 552-55। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। মূলত প্রকাশিত: হান্স রেইচেনব্যাখ, ‘The pragmatic justification of induction’ in Experience and Prediction: An analysis of the foundation and the structure of knowledge. (শিকাগো: ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো প্রেস, 1938) 341-2, 346-51, 355-7।
· Rosenberg, Alex. Philosophy of Science: A Contemporary Introduction. নিউ ইয়র্ক: রাউটলেজ 2012।
· Salmon, Wesley C. ‘Rational Prediction.’ The British Journal for the Philosophy of Science, 32 (1981): 115-125।
· Sankey, Howard, ‘Scientific Method’ in The Routledge Companion to Philosophy of Science, Stathis Psillos এবং Martin Curd (সম্পাদক)। (অক্সফোর্ড: রাউটলেজ, 2010)।
· Sober, Elliot. Evidence and Evolution: The Logic Behind the Science. ক্যামব্রিজ: ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, 2008।
তরজমা করেছেন- সিদ্দিকে আকবর।
মূল নিবন্ধ: What is Karl Popper’s View of the Scientific Method? Is That View Satisfactory?