হানাফী মাজহাব: উদ্ভব, ক্রমবিকাশ ও আইনের উৎস | নাইম আল-ইসলাম সজীব
মাজহাব ও তাকলিদ:
হানাফি মাজহাবের পরিচয় প্রদান পূর্বক আমরা মাজহাব কী জিনিস এবং মাজহাবের তাকলিদ করার ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কী সে বিষয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করবো।
প্রথমত আমরা মাজহাবের পরিচয়ের দিকে যাই। মাজহাব (مذهب) শব্দটি একবচন, বহুবচনে মাজাহিব (مذاهب)। যার শাব্দিক অর্থ হলো, তরিকা বা পন্থা (طريقة)। ইংরেজিতে, way to act এবং অনেকে school of law-ও তর্জমা করে থাকেন।
আর পারিভাষিকভাবে বলতে গেলে ইমাম কারাফীর ভাষায়—মাজহাব মানে হলো, মুজতাহিদের ইজতিহাদ ও সেগুলোর উসূল, যেগুলোর উপর তিনি ইজতিহাদের ক্ষেত্রে নির্ভর করেন।[1]
মুজামু লুগাতিল ফুকাহা এর মতে:
‘এটি হলো এমন এক তরিকা, যার মাধ্যমে আমলগত শরয়ী আহকামের বিস্তারিত দলিল প্রমাণ থেকে সেগুলোকে উদ্ঘাটন করা। উদ্ঘাটনের তরিকার বিভিন্নতাই মূলত ফিকহি মাজহাবের বিভিন্নতার উৎস হয়ে থাকে।’[2]
সহজ কথায়, শরীয়তের উৎসসমূহ হতে উদ্ঘাটিত মুজতাহিদ ইমামদের ইজতিহাদি মতামত হলো মাজহাব।
আর তাকলিদ (تقليد) শব্দের অর্থ হলো, অন্যের কথা বা কাজের অনুসরণ করা।
আর পরিভাষায় ইমাম গাজালী বলেন:
هو قبول قول بلا حجة
‘দলিল ছাড়া কোনো কথা গ্রহণ করা।’[3]
শরীয়তে মূলত তাকলিদের ব্যাপারে নিন্দা করা হয়েছে। কারণ তাকলিদ মানে হলো দলিল প্রমান ছাড়া অন্ধ অনুসরণ, তাছাড়া এটি মুকাল্লিদ গোষ্ঠীগুলোর মাঝে বাজে ধরণের গোঁড়ামি পয়দা করে।
তবে তাকলিদের হুকুমের ব্যাপারে উলামাদের মাঝে একাধিক মত প্রচলিত রয়েছে। একদল আম ভাবে এটিকে নাজায়েয বলেছে, তারা মুকাল্লাফ (শরীয়া আরোপিত বালেগ) ব্যক্তির উপর ইজতিহাদ করা, তার পন্থা ও উপকরণ শেখাকে ওয়াজিব বলেছেন। আরেকদল আম ভাবে সবার উপর তাকলিদ জায়েয বলেছেন, ইজতিহাদে সক্ষম ও অক্ষম উভয়ের উপর। কেউ কেউ ভাগ করেছেন: ইজতিহাদে অক্ষম ব্যক্তির উপর জায়েয আর ইজতিহাদে সক্ষম ব্যক্তির উপর নাজায়েয। ড. যায়দান বলেন, এটিই প্রাধান্য যোগ্য মত।[4]
হানাফি মাজহাব:
হানাফি মাজহাবকে ধরা হয় নির্ভরযোগ্য ফিকহি মাজহাবগুলোর মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সবচেয়ে প্রাচীন মাজহাব হিসেবে। এই মাজহাবকে ইমাম আবু হানিফার দিকে সম্পৃক্ত করে ‘হানাফি মাজহাব’ বা ‘মাজহাবুল ইমাম আবি হানিফা’ বলা হয়।
হানাফি মাজহাব হলো দুনিয়ার বুকে টিকে থাকা মাজহাবগুলোর মাঝে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, এই মাজহাবকে উম্মাহ কবুলিয়াতের সহিত গ্রহণ করেছে। কারণ তৎকালীন সময়ে এমন অনেক মাজহাব ছিলো যেগুলো ওই মাজহাবের ইমামের মৃত্যুর সাথে পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে গেছে। ড. আলি জুময়ার দাবি মতে অতীতে ৮৫ টির মতো মাজহাব ছিলো।[5]
এই মাজহাবগুলোর মাঝে মাত্র চারটি মাজহাব প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলো, তার মাঝে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে হানাফি মাজহাব, এবং তার অনুসারীও সর্বাধিক। এই মাজহাবের অনুসারীদের সংখ্যা হিসেব করলে তা পৃথিবীর মুসলমানদের তিনভাগের একভাগের বেশি হবে।[6]
ইমাম আবু হানিফার পরিচয়:
ইমাম আবু হানিফার মূল নাম—আবু হানিফা নুমান ইবনু সাবিত ইবনু যুত্বা ইবনু মাহ আত-তাইমী আল-কুফী। তিনি ছিলেন ইমামুল মিল্লাত, ফকিহুল উম্মত, এবং ইসলামের অন্যতম বড় ইমাম। তাকে ‘ইমামে আজম’ হিসেবে ভূষিত করা হয়।
তার দাদা যুত্বা ছিলেন ‘বনু তাইমুল্লাহ ইবনে সালাবা’ গোত্রের ক্রীতদাস। তারপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে তারা তাকে আজাদ করে দেয়। তার পিতা সাবেত ইসলামের উপরই জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[7]
তার দাদার বংশমূল নিয়ে ইখতিলাফ রয়েছে। বলা হয়ে থাকে তিনি কাবুলি বংশদ্ভূত আবার বলা হয় তিনি ব্যাবিলনীয় আবার বলা হয় আনবার থেকে বা তিরমিয থেকে বা নিসা থেকে এসেছেন।[8]
হানাফি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আবু হানিফার জন্ম ৮০ হিজরিতে কুফায়। তিনি সেখানেই বেড়ে উঠেন। এ কারণে তিনি একদল কনিষ্ঠ সাহাবীদের সাক্ষাৎ পান। কতিপয় উলামাদের দাবি মতে, তিনি চারজন সাহাবীর যুগ পান। আনাস ইবনু মালেক, আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা, সাহল ইবনু সাদ ও আবু তুফাইল আমেরের।[9]
কিন্তু এসব বিষয়ে ইখতিলাফ আছে যে, তিনি কি সরাসরি তাদের দেখেছেন বা তাদের থেকে রেওয়ায়াত করেছেন কিনা? তবে সঠিক মত হলো, তিনি আনাস রাযি. কে দেখেছেন, যখন তিনি (রাযি.) কুফায় এসেছেন। যেমনটি খতিব বাগদাদী ও যাহাবী বলেছেন, কিন্তু তাদের থেকে সরাসরি তার কোনো বর্ণনা সাব্যস্ত হয় নি।[10]
তা সত্ত্বেও আনাসের সাক্ষাৎ পাওয়ার দরুণ তাকে তাবেয়িদের অন্তর্ভুক্ত বলে ধরা হয়। কারণ অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মত হলো, তাবেয়ি তারা যারা সাহাবীদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন, এমনকি তাদের সঙ্গে না থাকলেও কিংবা তাদের থেকে বর্ণনা না করলেও।[11]
ইমাম আবু হানিফা প্রথম জীবনে তিনি স্বাভাবিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। ইলমের সাথে তার তলব বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিলো না। তিনি ব্যবসা বাণিজ্যে মশগুল ছিলেন। তিনি ছিলেন রেশমের ব্যবসায়ী, রেশম বিক্রি করতেন। ‘দারে আমর ইবনুল হারিস’ এ তার দোকান বেশ প্রসিদ্ধ ছিলো। পরবর্তীতে একদিন ইমাম শাবীর সাথে সাক্ষাৎ হয়। শাবী তার মধ্যে বিচক্ষণতা, বুদ্ধিমত্তা ও আভিজাত্য দেখে তাকে ইলম অন্বেষন ও উলামাদের সাথে ওঠাবসার পরামর্শ দেন। তারপর তার কথা তার মনে ধরে এবং তিনি ইলমের দিকে মনোনিবেশ করেন।
প্রথমে তিনি ইলমে কালামের প্রতি মনোনিবেশ করেন, এবং তাতে ব্যাপক হিস্যা অর্জন করেন। তারপর একদিন তিনি হাম্মাদ ইবনু আবি সুলাইমানের হালাকা বা মজলিসের নিকটে একটা জায়গায় বসা ছিলেন। তখন একটা মহিলা তার কাছে এসে শরীয়েতের একটা মাসয়ালা জিগ্যেস করলো। কিন্তু তাকে জবাব দেওয়ার মতো তিনি কিছু খুঁজে পেলেন না। তারপর সে মহিলা গিয়ে হাম্মাদকে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর দেন। একটু পরে সে মহিলা আবু হানিফার কাছে ফিরে এসে তাকে বললো—
غررتموني سمعت كلامكم، ولم تُحسنوا شيئا.
‘আপনি আমাকে ধোঁকা দিলেন, আমি আপনার কথা শুনেছি, কিন্তু আপনি তো কিছুই ভালো করে পারেন না।’
এটিই ছিলো তার ইলমে কালাম ছেড়ে হাম্মাদের মজলিস আঁকড়ে ধরার অন্যতম কারণ। এর মধ্য দিয়ে ইমাম আবু হানিফা হযরত হাম্মাদের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, এবং তাতে বিপুল হিস্যা অর্জন করেন।[12]
ইমাম আবু হানিফা বহুসংখ্যক বড় বড় উলামা তাবেয়ি ও তাবে তাবেয়িদের যুগ পেয়েছেন। এই কারণে তাঁদের অনেকের কাছ থেকে তাঁর ইলম শোনার সুযোগ হয়েছে। তাদের মাঝে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কয়েকজন হলো:
● আতা ইবনে আবি রাবাহ (মৃত্যু: ১১৪ হি.)
● শা’বী (মৃত্যু: ১০৪ হি.)
● আমর ইবনে দিনার (মৃত্যু: ১২৬ হি.)
● নাফে (মৃত্যু: ১১৮ হি.) (ইবনে ওমর রাযি. এর আজাদকৃত গোলাম)
● কাতাদা ইবনু দিআমাহ (মৃত্যু: ১১৮ হি.)
● ইবনু শিহাব আয যুহরী (মৃত্যু: ১২৪ হি.)
● হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমান (মৃত্যু: ১২০ হি.) প্রমূখ। (তিনি আঠারো বছর হাম্মাদের মজলিসে ছিলেন।)[13]
হাম্মাদ মারা যাওয়ার পর ইমাম আবু হানিফা হাম্মাদের হালাকার দায়িত্ব পান এবং তার ইলম ও মহত্ত্বের গুণে এই হালাকা হয়ে উঠে মসজিদের সবচেয়ে বড় হালাকা। লোকেরা দূর দূরান্ত থেকে তাঁর হালাকায় আসতে শুরু করলো। বলা বাহুল্য, তৎকালীন সময়ে বড় বড় মসজিদগুলোতে একাধিক ইলমি হালাকা জারী থাকতো।
ইমাম আবু হানিফার ছাত্রদের মাঝে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছিলেন:
● কাজিউল কুজাত আবু ইউসুফ (মৃত্যু: ১৮২ হি.)
● ইমাম যুফার ইবনু হুযাইল (মৃত্যু: ১৫৮ হি.)
● মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ শাইবানী (মৃত্যু: ১৮৯ হি.)
● হাসান ইবনু যিয়াদ আল লু’লু’ই (মৃত্যু: ২০৪ হি.)
● আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (মৃত্যু: ১৮১ হি.)
● ওয়াকি ইবনুল জাররাহ (মৃত্যু: ১৯৭ হি.)
● তাঁর ছেলে হাম্মাদ ইবনু আবি হানিফা (মৃত্যু: ১৭০ হি.) প্রমূখ।[14]
উস্তায হাম্মাদের ইন্তেকালের পর মানুষ তাঁর অনুরূপ একজনকে নিয়ে সেই হালাকায় তাদের সাথে বসার প্রয়োজন অনুভব করলো। তারা আশঙ্কা করলো, তার ইলম নষ্ট হয়ে যাওয়া, তার চিহ্ন মুছে যাওয়া। বলা বাহুল্য ইবরাহিম নখয়ীর মৃত্যুর পর ফিকহের নেতৃত্ব এসেছিলো হাম্মাদের উপর।
তারপর তারা হাম্মাদের ছেলে ইসমাইল ইবনু হাম্মাদকে সে জায়গায় বসালেন। কিন্তু তিনি তাদের খোরাক মেটাতে পারলেন না। তারপর সবাই মিলে আবু হানিফাকেই সেখানে বসানোর সিদ্ধান্ত করলো। তারপর তারা তাঁর মাঝে ইলম, সহমর্মিতা ও সবরের সমাহার দেখে অভিভূত হলো। যেটা অন্য কারো কাছে তারা পেলো না। ফলে তারা তার হালাকায় নিয়মিত হতে শুরু করলো এবং আসা যাওয়া করতে শুরু করলো। এভাবে তার হালাকা হয়ে উঠলো মসজিদের সবচেয়ে বড়. হালাকা। তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়লো ইথারে ইথারে।
কতিপয় উলামা বলেন: তিনি একটি স্বপ্ন দেখার পর, দরস প্রদান ও মানুষের সাথে বসার প্রতি তার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। তার স্বপ্নটা ছিলো এরকম যে, তিনি দেখলেন, তিনি নাবীজি (স.) এর রওজা মুবারক খুঁড়ছিলেন। তিনি এটা দেখে ভয় পেয়ে গেলেন, এবং একজনকে দিয়ে ইবনে সিরিনের কাছে পাঠালেন স্বপ্নের তাবির জিগ্যেস করার জন্য। ইবনে সিরিন বলেন: এই স্বপ্নের মালিক এমন এক ইলম পাবেন, তার পূর্বে কেউই যার নিকট উপনীত হতে পারে নি। তারপর আবু হানিফা আনন্দিত হলেন এবং তিনি মানুষের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টিকারী ইলম নিয়ে হাজির হলেন।[15]
ইমাম আবু হানিফার ইলমি প্রাচুর্য ও ফিকহি বিশিষ্টতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো কিতাব রচনা কিংবা কোনো সংকলন রচনার প্রতি মনোনিবেশ করেন নি। এটির মূল কারণ হলো তার ফতোয়ার নেতৃত্বে থাকা, দরস ও তালিম দানে মশগুল থাকা এবং বিদাতীদের সাথে তাঁর মুনাজারা। কিন্তু তবুও তাঁর কিছু, ছোটো হলেও কিমতী, কিতাব ও রিসালা রয়েছে। এগুলোর মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি কিতাব হলো: ‘আল ফিকহুল আকবার’ ও ‘আল আলিম ওয়াল মুতায়াল্লিম’। মূলত ইমাম আবু হানিফার প্রতি সম্পৃক্ত যেই কিতাবগুলো রয়েছে, সেগুলো তার শ্রুতিলিপি ও মতামতের সমষ্টি, যা তার অনুসারীরা একত্র করেছেন। যেমন: ‘আল মুসনাদ’, ‘আল ওয়াসিয়্যাহ’ ও ‘আল হিয়াল’ ইত্যাদি। [16]
যুগে যুগে নাবী-রসূল ও আল্লাহর নৈকট্যশীল বান্দারা নানান জুলুম-নির্যাতন ও পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন। ইমাম আবু হানিফার বেলায়ও এর ব্যতিক্রম ঘটে নি। তাঁর পরীক্ষাটা ছিলো এই রকম যে, তাকে কাজীর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য জোর করা হলে তিনি তা গ্রহণ করতে অসম্মত হন। তাঁর খোদাভীতি ও দ্বীনের ব্যাপারে অক্ষুণ্ণতা বজায় রাখার প্রতি ঝোঁক থাকার কারণে তিনি এতে সম্মত হতে চাচ্ছিলেন না। তিনি তাঁর খোদাভীতির দরুণ শাসকদের অর্থ ও তাদের পদ বা মসনদ থেকে হামেশাই দূরে থাকতেন। ইবনুল মুবারক তাঁর ব্যাপারে বলেন—
‘আমি আবু হানিফার চেয়ে অধিক খোদাভীরু ব্যক্তি আর দেখি নাই, তাকে চাবুক ও সম্পদ উভয়টি দ্বারাই পরীক্ষা করা হয়েছে।’[17]
বিভিন্ন বর্ণনার মারফত জানা যায়, তার উপর দুইবার এমন পরীক্ষা আপতিত হয়েছে। একবার, উমাইয়া আমলে। আরেকবার, আব্বাসী আমলে।
উমাইয়া আমলের শেষ খলীফা মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদের আমলে ইরাকের গভর্নর ছিলো ইয়াজিদ ইবনে আমর ইবনে হুবাইরা আল ফাযারী। সে কুফার কাজী হওয়ার জন্য ইমাম আবু হানিফাকে তলব করলে, ইমাম তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। তখন সে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে একশো দশটি চাবুক মারে। প্রতিদিন দশটি করে চাবুক। কিন্তু তবু ইমাম তাঁর সিদ্ধান্তে অটুট থাকেন, তিনি তা গ্রহণ করবেন না এই মর্মে বারবার অসম্মতি জানান। যখন গভর্নর ফাযারী এই অবস্থা দেখলো, সে তাঁর পথ ছেড়ে দিলো।[18]
আব্বাসী আমলে, খলীফা মনসুরের আমলে, খলীফা একবার ইমাম আবু হানিফাকে কাজীর দায়িত্ব পালনের জন্য তলব করলে তিনি তার স্বভাব অনুযায়ী অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। তারপর সে হলফ করে যে, আবু হানিফাকে সে কাজী বানিয়েই ছাড়বে। আর আবু হানিফাও হলফ করেন, তিনি তা করবেন না। তাকে বলা হলো—
‘আপনি দেখছেন না, আমিরুল মুমিনিন হলফ করেছেন?’
জবাবে তিনি বলেন—
‘আমিরুল মুমিনিন তার কসমের কাফ্ফারার ব্যাপারে অধিক সক্ষম।’
অতঃপর মনসুর তাকে জেলে নেওয়ার আদেশ করে। আর তিনি ১৫০ হিজরির রজব মাসে বাগদাদের জেলেই মৃত্যু যবনিকার ওপারে চলে যান।[19]
ইবনে হাজার আল হাইতামি বলেন—
‘যখন তিনি মৃত্যুর বিষয়টি অনুভব করলেন, তখন তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন, তারপর সিজদারত অবস্থায় তার রূহ (দেহ থেকে) বের হয়ে যায়।’[20]
হানাফি মাজহাবের বিভিন্ন ধাপ ও পর্যায়:
হানাফি মাজহাবের সূচনা হয় দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকে। নির্দিষ্ট করে বললে ১২০ হিজরির দিকে। যেদিন থেকে ইমাম আবু হানিফা তাঁর উস্তায হাম্মাদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ফতোয়া ও দরস দানের আসনে অধিষ্ঠিত হন। সেই বছরই এই ফিকহি মাজহাবের প্রতিষ্ঠা লাভ করে, যা একসময় দুনিয়াজোড়া খ্যাতি অর্জন করে।
ইমাম আবু হানিফার এই ‘ফিকহি স্কুল অব থট’ বা ‘স্কুল অব ল’ এর প্রসার বাড়তে থাকে। যেহেতু তার বিপুল সংখ্যক ছাত্র ও সাথি ছিলেন, যারা নিয়মিত তার হালাকায় বসতেন, তার মতামত সংকলন করতেন এবং সেগুলোর প্রচার করতেন। এদের ব্যাপক অবদান রয়েছে তাঁর মাজহাব প্রতিষ্ঠিত করা, তাঁর মতামত ও কওলগুলো প্রচার করার ক্ষেত্রে। এদের মাঝে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন, ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ শাইবানী।[21]
ইবনে আব্দিল বার বলেন—
‘ইমাম আবু হানিফার অনেক মহীয়ান সাথি ছিলেন, যারা দুনিয়াতে নেতা ছিলেন। তাঁর ফিকহ মূলত তাদের হাত ধরেই আবির্ভাব হয়েছে। তাঁদের মাঝে সবচেয়ে বড় হলেন, আবু ইউসুফ...’[22]
ইমাম আবু ইউসুফ হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি ইমাম আবু হানিফার মাজহাব বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন। তাঁর মতামত ও বর্ণনাগুলোকে সংকলন করেছেন। এটি করেছেন তাঁর লিখিত গ্রন্থাবলির মধ্য দিয়ে। যেমন ‘কিতাবুল আসার’, যেটা তিনি ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন। ‘ইখতিলাফু ইবনি আবি লাইলা’, এখানে তিনি তার শাইখকে সমর্থন করেছেন ইবনে আবি লাইলার সাথে ইখতিলাফ কালে। ‘আর রদ আলা সিয়ারিল আওযায়ী’ কিতাব, যেখানে তিনি তার স্বীয় মাজহাব ও তাঁর শাইখকে সমর্থন করেছেন। এছাড়া লিখেছেন বিখ্যাত ‘আল খারাজ’ কিতাব। এটি ছিলো অর্থের বিধিবিধান নিয়ে লেখা রিসালা, যা হারুনুর রশীদকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন।[23]
আবু ইউসুফ, তিনি ষোলো বছর আব্বাসীদের কাজীর দায়িত্ব পালন করেছেন, এবং আব্বাসী খেলাফতভুক্ত অঞ্চলে কাজীদের নির্বাচন ও তাদের নিযুক্ত করার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিলো। বেশিরভাগ সময় সে ক্ষেত্রে তিনি হানাফি মাজহাবের লোকেদেরকেই নিয়োগ দিতেন। এ কারণে খেলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলে হানাফি ফিকহ ও তার মতামতের প্রসারের ক্ষেত্রে এই জিনিসের বিপুল প্রভাব রয়েছে।
তাঁর ব্যাপারে ইমাম যাহেদ কাউসারী বলেন—
‘তিনি ছিলেন মুজতাহিদে মুতলাক। যদিও তিনি তাঁর নিজেকে ইমাম আবু হানিফার প্রতি সম্পৃক্ত করার ব্যাপারটি অব্যাহত রেখেছেন।’[24]
আর ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ শাইবানী, তিনি ছিলেন হানাফি মাজহাবের অন্যতম আরেক বর্ণনাকারী, যিনি তার কিতাবাদির মাধ্যমে ইমাম আবু হানিফার ইলম প্রচার করেছেন। তিনি লিখেছেন হানাফি মাজহাবের ‘আল উসূল আস সিত্তাহ’ খ্যাত মৌলিক ছয়টি কিতাব কিংবা যেগুলো ‘জহিরুর রিওয়ায়াহ’র কিতাব হিসেবে পরিচিত। সেই কিতাবগুলো হলো, ‘আল আসল’ বা ‘আল মাবসুত’, ‘আয যিয়াদাত’, ‘আল জামিউস সগীর’, ‘আল জামিউল কাবীর’, ‘আস সিয়ারুস সগীর’ ও ‘আস সিয়ারুল কাবীর’।[25]
হানাফি মাজহাবের প্রতিষ্ঠা ও ব্যাপ্তিকে বিশেষজ্ঞরা তিনটি পর্বে ভাগ করেছেন। নিম্নে সেগুলো নিয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো:
প্রথম ধাপ: হানাফি মাজহাবের প্রতিষ্ঠা ও উত্থান (১২০-২০৪ হি.) ;
এই ধাপের সূচনা হয় ইমাম আবু হানিফার আমল থেকে, আর সমাপ্ত হয় ইমাম হাসান ইবনু যিয়াদ আল লু’লুইর (মৃত্যু: ২০৪ হি.) ওফাতের মধ্য দিয়ে।
এই পর্বের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মারহালাতু তা’সিসিল মাযহাব আল হানাফি’ বা হানাফি মাজহাব প্রতিষ্ঠা পর্ব। এই পর্বে মাজহাব প্রতিষ্ঠার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, মাজহাবের উসূল প্রণয়ন ও নীতিমালা প্রতিষ্ঠার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যেগুলোর ভিত্তির উপর হুকুম আহকাম উদ্ঘাটন করা হয় এবং শাখা মাসয়ালা বের করা হয়। এটি স্বয়ং ইমাম আবু হানিফার হাতে ও তাঁর নির্দেশনায়, তাঁর বড় বড় ছাত্রদের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায়, সম্পন্ন হয়েছে। [26]
সেখানে দরস প্রদানের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফার একটি অনন্য পদ্ধতি ছিলো। সেই পদ্ধতিটি ছিলো মূলত ফিকহি মাসয়ালাগুলোর ক্ষেত্রে আলোচনা ও বিতর্কের উপর ভিত্তিশীল। এই বিতর্ক ও আলোচনার মধ্য দিয়েই কোনো বিষয়ে হুকুম নির্ধারিত হতো, তারপর তিনি আবু ইউসুফকে তা লিপিবদ্ধ করার আদেশ দিতেন।[27]
আল মুওয়াফফাক ইবনুল মাক্কি ইমাম আবু হানিফার দরস দানের পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:
‘অতঃপর আবু হানিফা তাদের মাঝে পরস্পর পরামর্শের ভিত্তিতে তাঁর মাজহাব প্রণয়ন করেন, সে ক্ষেত্রে অন্যদেরকে বাদ দিয়ে তিনি নিজে একচেটিয়া হয়ে ওঠেন নি, তার মাজহাব প্রণীত হয়েছিলো দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষ থেকে ইজতিহাদের উপর ভিত্তি করে এবং আল্লাহ, তাঁর রসূল ও মুমিনদের জন্য অতিমাত্রায় কল্যাণ কামনার দিক থেকে। তিনি এক এক করে মাসয়ালা উপস্থাপন করতেন, তাদের সাথে আলোচনা করতেন এবং তাদের মতামত শুনতেন ও স্বীয় মতামত জানাতেন, একমাস কিংবা তার চেয়েও বেশি সময় তাদের সাথে সেটা নিয়ে তর্ক বিতর্ক করতেন, অবশেষে সেই মাসয়ালার ব্যাপারে একটা মত ঠিক হতো, তারপর কাজী আবু ইউসুফ সেই মাসয়ালাগুলোকে (মাজহাবের) উসূল বা মৌলিক নীতিমালার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ও লিপিবদ্ধ করতেন, অবশেষে এভাবেই মাজহাবের সবগুলো উসূল অন্তর্ভুক্ত করা হলো।’[28]
একারণে বলা হয় ইমাম আবু হানিফার ছাত্ররা কেবল তার দরস বা তাঁর মতামতগুলো শুনেন না, বরং তারা এই ফিকহি অবকাঠামো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অংশও নিয়েছিলেন।
ইমাম আবু হানিফার মাজহাবের এই সংকলনের কাজ কেবল আবু ইউসুফ একা করতেন না, বরং তাঁর হালাকায় দশজন ছিলো, যারা কিনা সংকলনের কাজ আঞ্জাম দিতেন। এদের মাঝে প্রধান ছিলো চারজন: আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান, যুফার ইবনুল হুযাইল ও হাসান ইবনু যিয়াদ।[29]
আবু হানিফার এই শাগরেদগণ, বিশেষত সাহেবাইন (আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ ইবনুল হাসান), তাদের শাইখের মৃত্যুর পর এই মাজহাবের বিকাশ ও পরিমার্জনের ক্ষেত্রে বিপুল পরিশ্রম করেন।
তারা তাদের শাইখের জীবদ্দশায় পোষণ করা মতামতগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করেন এবং নতুন নতুন যেসকল দলিলাদি তাদের হাতে আসলো সেগুলো এবং মানুষের জনজীবনের পরিবর্তন ও তাদের সমস্যাগুলোর আলোকে সেগুলোকে পুনঃনিরীক্ষণ করেন। এ কারণে আমরা দেখি তারা তাদের অনেক মতামতে তাদের শাইখের মতের সাথে পরবর্তীকালে দ্বিমত পোষণ করেন। তারা বহু মৌলিক ও শাখাগত মাসয়ালায় তাদের ইমামের সাথে ইখতিলাফ করেন, তা সত্ত্বেও তারা মুজতাহিদ এবং তারা হানাফি হিসেবে পরিচিত। কেননা তারা ইমাম আবু হানিফার প্রণীত কওয়াইদের উপর ভিত্তি করেছেন এবং ইজতিহাদের ক্ষেত্রে তার তরিকা অবলম্বন করেছেন। এই কারণে ইমাম আবু হানিফার মতামতগুলোর সাথে তাদের মতামত লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।[30]
দ্বিতীয় পর্যায়: বিস্তৃতি, বিকাশ ও সম্প্রসারণ (২০৪-৭১০ হি.) ;
এই পর্যায়ের সূচনা হয় ইমাম হাসান ইবনু যিয়াদের (২০৪ হি.) মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আর এর সমাপ্তি ঘটে ইমাম হাফিজুদ্দীন আন নাসাফীর (৭১০ হি.) মৃত্যুর মধ্য দিয়ে, যিনি বিখ্যাত মতন ‘কানযুদ দাকাইক’র লেখক। অর্থাৎ এই পর্যায়ের সূচনা হয়েছে তৃতীয় হিজরির শুরুর দিকে আর শেষ হয়েছে সপ্তম হিজরির শেষ ও অষ্টম হিজরির শুরুর দিকে।[31]
ফিকহে হানাফির ইতিহাসে এই পর্বটি সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ পর্ব। বিস্তৃতি ও প্রসারের দিক থেকে, ইজতিহাদের ব্যাপকতা ও মতামতের বিকাশের দিক থেকে। এই পর্বের শুরুতেই আবির্ভাব ঘটেছে মাশায়েখ শ্রেণী কিংবা মাজহাবের বড় বড় উলামাদের, যারা এই মাজহাব সম্পাদনা এবং তার পরিভাষা নির্ধারণ ও তারজিহ-তাখরিজের উসূল বর্ণনার ক্ষেত্রে বিপুল শ্রম ব্যয় করেছেন। বলা বাহুল্য, ইমাম আবু হানিফার মাজহাব ও মতামতগুলির প্রথম প্রতিনিধিত্বকারী ছিলো ইমাম মুহাম্মদের কিতাবগুলো কিংবা যেগুলোর ক্ষেত্রে ‘জাহিরুর রিওয়ায়াহ’ পরিভাষাটি ব্যবহার করা হয়।
কিন্তু পরবর্তীতে যখন জনজীবনে পরিবর্তন আসলো, মানুষের সামনো নতুন নতুন অবস্থা ও সংকট তৈরি হলো, তখন সে ক্ষেত্রে হানাফি মাজহাবের মতামত কী তার জরুরত দেখা দিলো। ফলে বিভিন্ন মতন ও মুখতাসার গ্রন্থের আবির্ভাব ঘটলো। যেমন ‘মুখতাসারুত তহাওয়ী’ (৩২১ হি.), ‘মুখতাসারুল কারখী’ (৩৪০ হি.), ‘মুখতাসারুল কুদুরী’ (৪২৮ হি.), ‘বিদায়াতুল মুবতাদী লিল মারগীনানী’ (৫৯৩ হি.) ইত্যাদি।
একইভাবে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও দীর্ঘ গ্রন্থেরও আবির্ভাব ঘটে। যেমন, সারাখসির ‘আল মাবসুত’ (৪৯০ হি.), কাসানীর ‘আল বাদাই’উস সানাই’ (৫৮৭ হি.) মারগীনানীর ‘আল হিদায়া’ ইত্যাদি।
একইভাবে আবির্ভাব ঘটে ফতোয়া ও নাওয়াযিলের কিতাবগুলোর। যেমন: ‘নাওয়াযিলুস সমরকন্দী (৩৭৩/৩৭৫ হি.)’, ‘ফতোয়া কাজিখান (৫৯২ হি.)’ ইত্যাদি।[32]
এই পর্বে বিশেষত চতুর্থ শতকে হানাফিদের নিকট আরেক প্রকার রচনার আবির্ভাব ঘটে। তা ‘আত তাসিল আল হাদিসী লিল মাযহাব’ হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ হাদিসগত দিক থেকে মাজহাবের মূল অনুসন্ধান। এর উদাহরণ হলো ইমাম তহাবীর হাদিসী কিতাবগুলো যেমন: ‘শরহুল মায়ানিল আসার’ ও ‘শরহু মুশকিলিল আসার’।[33]
তাছাড়া এই সময়টাতে হানাফি মাজহাবের দুটি উসূলি ধারার আবির্ভাব ঘটেছে। এদের প্রত্যেকেই একে অপরের থেকে আলাদা—
—ইরাকী ধারা, এদের নেতৃত্বে ছিলেন ইমাম আবুল হাসান আল কারখী, এই ধারাকে ইমাম আবু হানিফা ও তার প্রথম দিককার সাথিদের তরিকার পরিব্যাপ্তি বা সংযোজিত অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
—সমরকন্দী মাশায়েখদের ধারা, এদের নেতৃত্বে ছিলেন ইমাম আবুল মনসুর আল মাতুরিদী। এই ধারার বৈশিষ্ট্য হলো উসূলের মাসয়ালাগুলোকে আকিদার মাসয়ালার সাথে সংযুক্ত করা। যেই কারণে ইরাকী ধারার সাথে এদের কিছু ইখতিলাফ ও বিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছে।[34]
তৃতীয় পর্ব: মারহালাতুল ইসতিকরর বা স্থিতিশীলতার পর্ব (৭১০ হি. থেকে বর্তমান):
এই পর্বের সূচনা ঘটেছে ইমাম নাসাফীর (৭১০ হি.) মৃত্যুর মধ্য দিয়ে কিংবা বলা যায় হিজরি অষ্টম শতাব্দীর শুরুর দিকে, এবং তা এখন অবধি চলমান আছে।
এই পর্বের বৈশিষ্ট্য হলো ফিকহি স্থিতিশীলতা ও স্থায়িত্ব’র আধিক্য, যা তার পূর্বের পর্বের বিপরীত। এই পর্বের উলামারা কেবল পূর্ববর্তীদের ফিকহি মতামত ও কওলের উপর নির্ভরশীল। তারা কেবল কিছু শরাহ, হাশিয়া, টীকা, কিংবা বড়জোর খণ্ডন করেই ক্ষান্ত থেকেছেন। তাদের অধিকাংশ রচনা এগুলোকে কেন্দ্র করে রচিত।
এই পর্যায়ে গিয়ে ইজতিহাদের সীমাবদ্ধতা ও মাজহাবের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি বেড়ে যায়। যার দরুণ একজন মুজতাহিদ যিনি কিনা ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছে গেছেন, তিনিও জরুরত ব্যতীত মাজহাবের মতামতের বাইরে যেতে পারতেন না। এমনকি তিনি তার ইজতিহাদের মাধ্যমে যেই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, সেটা যদি দলিলের দিক থেকে মাজহাবের বাকি সকল মত থেকে শক্তিশালীও হয়, তবুও তার বের হওয়ার সুযোগ নেই। ইবনে আবিদিন ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণিত এই কওলটি—
إذا صح الحديث فهو مذهبي
‘হাদিস সহিহ হলে সেটাই আমার মাজহাব।’
এর টীকায় বলেন: ‘এই কওলটিকে এভাবে শর্তযুক্ত করা উচিত যে, যদি তা মাজহাবের অভ্যন্তরীণ কোনো মতের সাথে মিলে, যে বিষয়ে আমাদের ইমামরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন (তবে সে ক্ষেত্রেই মুজতাহিদ সহিহ হাদিসের আলোকে ঐ মত গ্রহণ করবে); যেহেতু তাকে ইজতিহাদের ক্ষেত্রে যেটা একেবারেই মাজহাবের বাইরে চলে যায়, সে বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হয় নি। কারণ ইমামদের ইজতিহাদ তার ইজতিহাদ থেকে ‘শক্তিশালী’।’ [35]
এই কারণে তারা ইবনুল হুমামের তারজিহগুলো নাকচ করেছেন। অথচ তিনি ছিলেন মুহাক্কিকদের মাঝে সর্বশেষ, যেমনটি ইবনু আবেদিন বর্ণনা করেছেন। সেগুলোর উপর হানাফিরা আমল করে না।
তার ছাত্র আল্লামা কাসেম বলেন:
‘আমাদের শাইখের ওই সকল গবেষণার উপর আমল করা হয় না, যেগুলো মাজহাবের বিরুদ্ধে যায়।’[36]
ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের উৎস ও ফিকহি দলিল:
ইমাম আবু হানিফা তার মাজহাব তৈরির ক্ষেত্রে যেই মানহাজ অবলম্বন করেছেন, তার ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা তার থেকে আসেনি। গবেষণা ও ইজতিহাদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দানের কোন কোন নীতি তিনি অবলম্বন করতেন সেটিও বিস্তারিত বর্ণিত হয় নি। তবে বেশকিছু বর্ণনা আছে যেগুলো তার কর্মপন্থা ও আম মানহাজ কী তা স্পষ্ট করে। যেই মানহাজের উপর ভিত্তি করে তিনি তার মাজহাবের নীতিমালা ও উসূল ঠিক করেছেন।
ইমাম আবু হানিফা আহকাম বা মাসয়ালা ইস্তিম্বাতের ক্ষেত্রে সাতটি উৎসের উপর নির্ভর করতেন। এগুলোর কয়েকটি নাম রয়েছে—‘আল মাসাদির ফি উসূলিল ফিকহিল হানাফি’, ‘উসুসুল মাযহাব আল হানাফি ’, ‘উসূলুল ইস্তিম্বাত আল আম্মাহ ফিল হানাফিয়্যাহ’, ‘আল আদিল্লাহ আল ফিকহিয়্যাহ ইন্দাল হানাফিয়্যাহ’।
হানাফি মাজহাবের এই সাতটি উৎস বা ফিকহি দলিল হলো—
কুরআন
সুন্নাহ
সাহাবিদের কওল বা ফতোয়া
ইজমা
কিয়াস
ইস্তিহসান
উরফ
কুরআন:
কুরআন হলো সবগুলো উৎসের মূল উৎস। অন্যান্য সব উৎসই তার প্রমাণের ভিত্তির ক্ষেত্রে কুরআনের দিকে ফিরে আসে।
ইমাম আবু হানিফার ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলতেন কুরআন কেবল অর্থের নাম, তাই তার মত ছিলো আরবিতে কেরাত পাঠ শর্ত না। ফার্সিতে পাঠ করাই যথেষ্ট। বাযদুবীর বর্ণনা মতে তিনি পরবর্তীতে তার এই মত থেকে জমহুরের মতের দিকে ফিরে এসেছেন যে, কুরআন শব্দ ও অর্থের সমষ্টির নাম। আর, তার উপরেই ফতোয়া। তাই ফার্সিতে কেরাত পাঠ যথেষ্ট না।[37]
সুন্নাহ:
সুন্নাহ হলো ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস। ইমাম আবু হানিফা নাবী সা. থেকে কোনো হাদিস সাব্যস্ত হলে সেটি গ্রহণ করতেন। আর যদি নাবী সা. থেকে দুটি পরস্পর বিরোধী সহিহ হাদিস বর্ণিত হতো, তবে তিনি সর্বশেষ হাদিসটি তিনি গ্রহণ করতেন। এটি মুতাওয়াতির ও মাশহুর হাদিসের ক্ষেত্রে। অনুরূপ করতেন আহাদ হাদিসের ক্ষেত্রেও যতক্ষণ না তা ‘আল কিয়াস আর রাজিহ বা অগ্রাধিকার যোগ্য কিয়াসের’ বিপরীতে যেতো; যদি এমন হতো সে ক্ষেত্রে তিনি ওই কিয়াসকেই অগ্রাধিকার দিতেন। এটি প্রবৃত্তির তাড়না থেকে কিংবা নিজের মর্জি মাফিক করতেন এমনটি না, কিংবা সহিহ হাদিস থেকে বিমুখতার কারণে করতেন এমনটিও না, বরং অতিরিক্ত সতর্কতার দরুণ এটি করতেন। তাছাড়া অগ্রাধিকারযোগ্য কিয়াস হানাফি মাজহাবে ‘আসলে আম’ হিসেবে পরিগণিত। এই কারণে তা কাতয়ী বা অকাট্য হিসেবে পরিগণিত হয়। আর অপরদিকে খবরে ওয়াহেদ হলো যন্নী।
কিন্তু সাধারণত আবু হানিফার নীতি হলো, খবরে ওয়াহেদকে কিয়াসের উপর প্রাধান্য দেওয়া। তবে কখনো কখনো তার নিকট থাকা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা সাপেক্ষে তিনি এ নীতি লঙ্ঘনও করতেন। উসূলুল হানাফিয়্যাহ কেতাবের লেখক ড. ওয়াহবাহ আয যুহাইলী বলেন,
‘…এটা সঠিক না যে এই ইমাম কিয়াসকে সুন্নাহর উপর প্রাধান্য দিতেন কিংবা তার কাছে কেবল ১৭ টি হাদিসই সহিহ ছিলো।’
এই দুইটিই ছিলো ইমামের বিরুদ্ধে দেওয়া অপবাদ। যা যুহাইলী একবাক্যে নাকচ করেছেন।[38]
সাহাবীদের কওল বা ফতোয়া:
এটি হলো এমন কওল বা ফতোয়া, যা সাহাবী কেবল নিজস্ব ইজতিহাদের মাধ্যমে বলতেন। যদি এমন কওলের ক্ষেত্রে বিভিন্নতা বা সংখ্যাধিক্যতা দেখা দিতো, তবে ইমাম আবু হানিফা যেটাকে শরীয়ার রূহের কাছাকাছি মনে করতেন, সেটা গ্রহণ করতেন। তিনি সাহাবীদের মতামতের বিপরীতে যেতেন না। তিনি বলেন—
‘আমি যদি (কোনো বিষয়) কিতাবুল্লাহয় না পাই, রসূলুল্লাহর সুন্নতে না পাই, তবে আমি (সাহাবীদের মাঝে) যাকে চাই তার কওল বা মত গ্রহণ করি এবং তাদের মাঝে যাকে চাই না, তার থেকে গ্রহণ করি না, তাদের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে আমি অন্যদের মত গ্রহণ করি না। যদি বিষয়টির এখানেই সমাপ্তি না ঘটে বা তা যদি ইব্রাহিম নখয়ী, শা’বী, ইবনু সিরিন, হাসান বসরী, আতা, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব—আরো আরো নাম বলেছেন—এদের কাছে আসে, তবে তারা এমন মানুষ, যারা ইজতিহাদ করে, কাজেই আমিও তাদের মতোই ইজতিহাদ করি এ ক্ষেত্রে।’
অর্থাৎ আমি যদি কুরআন, হাদিস ও সাহাবীদের কওলে না পাই তবে এই সকল তাবেয়িদের মতো আমিও সে ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করি।[39]
ইজমা:
‘ইজমা হলো কোনো যুগে শরয়ী কোনো হুকুমের উপর মুহাম্মাদ সা. এর ওফাতের পর তাঁর উম্মতের মুজতাহিদদের ঐকমত্য।’[40]
হানাফি উলামারা বলেছেন যে, ইমাম আবু হানিফা ইজমাকে তাঁর ফিকহের অন্যতম মৌলিক উৎস হিসেবে বিবেচনা করতেন। সেটা ইজমা সরিহ (স্পষ্ট ইজমা) হোক বা ইজমা সুকুতী (মৌনসম্মতি সূচক) হোক, তার উপর আমল করা আবশ্যক।
উসূল আশ শাশী কেতাবে ইজমার চারটি প্রকারের উল্লেখ রয়েছে—
১. কোনো সংঘটিত বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে সাহাবায়ে কেরামের ইজমা।
২. সাহাবায়ে কেরামের এমন ইজমা, যাতে কিছুসংখ্যক সাহাবীর বর্ণনা রয়েছে। আর কিছুসংখ্যক সাহাবীর প্রত্যাখ্যানহীন নীরবতা রয়েছে।
৩. সাহাবায়ে কেরামের পরবর্তীদের এমন বিষয় ইজমা যাতে সালাফে সালিহীনের কোনো উক্তি বর্ণিত নেই। (এই ইজমায় সকল যুগের মুজতাহিদরা যুক্ত হবে)।
৪. সালাফে সালিহীনের কোনো উক্তির উপর উম্মতের ইজমা।[41]
কিয়াস:
কিয়াস হলো হুকুমের ব্যাপারে নস নেই এমন একটা বিষয়কে হুকুমের ব্যাপারে নস আছে এমন একটি বিষয়ের সাথে হুকুমের ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করা; উভয়ের মাঝে ইল্লত এক হওয়ার কারণে।[42]
আল মানার প্রণেতা বলেন—
‘ইল্লত ও হুকুমের ক্ষেত্রে فرع তথা শাখাকে أصل এর সাথে তুলনা করা।’[43]
কিয়াসের চারটি রুকন রয়েছে—
১. أصل বা মূল: যার উপর কিয়াস করা হয়।
২. فرع বা শাখা: যাকে কিয়াস করা হয়।
৩. حكم الأصل: মূলের হুকুম।
৪. علة : মূল ও শাখার মাঝে সূত্র।[44]
ইমাম আবু হানিফা ইজতিহাদের ভিত্তিতে তখন কিয়াসকে গ্রহণ করতেন, যখন পূর্বে উল্লিখিত কিছু না পেতেন। আর ওইসব কিছুর উপর তিনি কিয়াসকে অগ্রাধিকারও দিতেন না। যদি না তা ‘কিয়াস রাজিহ’ না হতো।
ড. যুহাইলী বলেন—
‘ইমাম আবু হানিফা অধিক পরিমাণে কিয়াস করতেন। তিনি হাদিসকে অনুধাবন করতেন সেই পরিবেশ বা অবস্থার আলোকে যে পরিবেশে তিনি থাকতেন। কিয়াসের দাবি অনুযায়ী তিনি শাখা মাসয়ালাগুলো বের করতেন। কারণ ইরাকে হাদিসের সংখ্যা কম ছিলো। আর ফকিহ সাহাবী, যারা ইরাকে থেকেছেন, তারা অধিক পরিমাণে ‘রায়’ করতেন। তারা মনে করতেন, রসূল সা. এর প্রতি মিথ্যারোপ করার চাইতে, কিংবা রসূল সা. হয়তো বলেন নি এমন কিছু নিয়ে কথা বলার চাইতে তাদের জন্য ‘রায়’-ই উত্তম।’[45]
ইস্তিহসান:
ইস্তিহসান শব্দের অর্থ হলো,عد الشيء حسنا অর্থাৎ কোনো কিছুকে ভালো হিসেবে বিবেচনা করা।
বাযদুভী বলেন—
‘ইস্তিহসান হলো, একটা কিয়াসের ফলাফল থেকে এমন আরেকটি কিয়াসের দিকে সরে যাওয়া যা তার থেকেও শক্তিশালী, অথবা তা হলো কোনো কিয়াসকে তার শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট করে দেওয়া।’
হানাফি ফকিহ আল হালাওয়ানী বলেন—
‘কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমা থেকে প্রাপ্ত এমন কোনো দলিলের দরুণ কোনো কিয়াসকে বর্জন করা, যেই দলিল তার থেকেও শক্তিশালী।’
কারখী বলেন—
‘ইস্তিহসান হলো এমন একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যেখানে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে পূর্ববর্তী অনুরূপ ঘটনাগুলোর উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; এমন একটি কারণে যা প্রথমটি থেকে সরে যাওয়ার দাবি জানায়।’
আবু যাহরা এটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।[46]
হানাফি, মালিকী এবং হাম্বলী মাজহাবের ফকিহগণ কর্তৃক ইসতিহসান (মৌলিক ভিত্তি হিসেবে) স্বীকৃতি পেয়েছে। আবার শাফিঈ, শিয়া এবং জাহিরী মাজহাবের ফকিহগণ কর্তৃক ইসতিহসান স্বীকৃতি পায়নি।
যাহোক, বাস্তবতা হলো অধিকাংশ উলামা কর্তৃক ইসতিহসান স্বীকৃত। ইসতিহসানের উদাহরণ দিতে গিয়ে হজরত ওমর রাযি. কর্তৃক দুর্ভিক্ষের সময় চুরির অপরাধে হুদুদ আইনে দণ্ডিতের হাত কাটার শাস্তি স্থগিত করার উদাহরণ উপস্থাপন করা হয়। এখানে একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ইসলামের একটি নির্দিষ্ট আইনকে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে স্থগিত করা হয়।[47]
উরফ:
উরফ হলো সমাজে প্রচলিত প্রথা, মানুষ যেটাতে অভ্যস্ত। এটি কথা ও কাজ উভয়টিই হতে পারে।[48]
যদি কোনো বিষয়ে কোনো নস (কুরআন ও হাদিস) না থাকে, কোনো ইজমা না থাকে, কিয়াস বা ইস্তিহসানের মাধ্যমে নসের দিকে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকে তবে ইমাম আবু হানিফা মানুষের মুয়ামালাত দেখতেন, এবং মানুষের উরফ অনুযায়ী বিধান নিতেন।[49]
[1]তথ্যসূত্র:
আল ইহকাম ফি তামঈযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদী অয়াল ইমাম, আল ইমাম আল কারাফী (১/১৯৫)
[2] মুজামু লুগাতিল ফুকাহা, মুহাম্মাদ কালয়াজী পৃ. ৪১৯
[3] আল ওয়াজিয ফি উসূলিল ফিকহ, আব্দুল করিম যায়দান পৃ. ৩২৩
[4] প্রাগুক্ত
[6] দেখুন: আল মাজহাব ইনদাল হানাফিয়্যাহ, ড. ইবরাহিম আহমদ আলি পৃ. ২৫
[7] দেখুন: সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ইমাম যাহবী (৬/৩৯৪)
[8] দেখুন: আখবারু আবি হানিফা ওয়া আসহাবিহি পৃ. ১৬
[9] তাবাকাতুল ফুকাহা ৮৬ পৃ.
[10] আল খাইরাত আল হিসান পৃ. ২৩
[11] মুকাদ্দিমা ইবনিস সালাহ ৩০২ পৃ.
[12] দেখুন: আখবারু আবি হানিফা পৃ. ১৯, ২০; তারিখু বাগদাদ (১৫/৪৫৬)
[13] দেখুন: আত তাবাকাত আস সানিয়্যাহ (১/৭৯)
[14] দেখুন: আল ইনতিকা পৃ. ১৭২
[15] দেখুন: তারিখু বাগদাদ (১৫/৪৫৮)
[16] দেখুন: মানাকিবুল ইমাম আবু হানিফা, আল কারদারী (১/১০৮); আল মাজহাব আল হানাফি । আহমদ আন নাকীব (১/৭০)
[17] দেখুন: তারিখু বাগদাদ (১৫/৪১৯)
[18] দেখুন: তারিখে বাগদাদ (১৫/৪৯১)
[19] দেখুন:মানাকিবু আবি হানিফা ওয়া সাহাবীহি পৃ. ২৬
[20] দেখুন: আল খাইরাত আল হিসান পৃ. ৭০
[21] দেখুন: আল মাদখাল ইলা মাজহাবি আবি হানিফা পৃ. ১০২, ১০৩
[22] দেখুন: মানাযিলুল আইম্মা আল আরবায়াহ পৃ. ১৭৭
[23] দেখুন: তারিখুল মাজাহিব আল ইসলামিয়্যাহ, আবু যাহরা পৃ. ৩৬৩
[24] দেখুন: হুসনুত তাক্বাদী ফি সিরাতিল ইমাম আবি ইউসুফ আল ক্বাদী পৃ. ২৩-২৮
[25] দেখুন: তারিখুল মাজাহিব আল ইসলামিয়্যাহ, আবু যাহরা পৃ. ৩৬৩, ৩৬৪
[26] দেখুন: আবু হানিফা, আরাউহু ওয়া ফিকহুহু পৃ. ২১৩
[27] দেখুন: আল মাজহাব ইনদাল হানাফিয়্যাহ পৃ. ৪৮
[28] দেখুন: মানাকিবুল ইমাম আল আজাম পৃ. (২/১৩৩)
[29] দেখুন: আল মাজহাব ইনদাল হানাফিয়্যাহ পৃ. ৪৮
[30] দেখুন: আল মাযাহিব আল ফিকহিয়্যাহ আল আরবায়াহ: আইম্মাতুহা, আতওয়ারুহা, উসূলুহা, আসারুহা পৃ. ১৮-১৯
[31] দেখুন: আল মাজহাব ইনদাল হানাফিয়্যাহ পৃ. ৩৬, ৬২
[32] প্রাগুক্ত পৃ. ৬৬
[33] দেখুন: আল মাদখাল ইলা মাযহাবি আবি হানিফা পৃ. ৬৬
[34] প্রাগুক্ত
[35] দেখুন: শারহু মানযুমাতি উকুদু রাস্মিল মুফতী (রাসাইলু ইবনু আবেদিনের অন্তর্গত) (১/২৪); আল মাযাহিব আল ফিকহিয়্যাহ আল আরবায়াহ: আইম্মাতুহা, আতওয়ারুহা, উসূলুহা, আসারুহা পৃ. ২১-২২
[36] দেখুন: শারহু মানযুমাতি উকুদু রাস্মিল মুফতী (রাসাইলু ইবনু আবেদিনের অন্তর্গত) (১/২৪); আল মাজহাব ইনদাল হানাফিয়্যাহ পৃ. ৮৭, ৮৮
[37] দেখুন: উসূলুল ফিকহ আল হানাফি , আয যুহাইলী পৃ. ১১
[38] দেখুন: আল মাযাহিব আল ফিকহিয়্যাহ আল আরবায়াহ: আইম্মাতুহা, আতওয়ারুহা, উসূলুহা, আসারুহা পৃ. ২৭-২৮; উসূলুল ফিকহ আল হানাফি , আয যুহাইলী পৃ. ১২
[39] দেখুন: তারিখু বাগদাদ ১৩/৩৬৮, উসূলুল ফিকহ আল হানাফি , আয যুহাইলী পৃ. ১২
[40] দেখুন: উসূলুল ফিকহ আল হানাফি , আয যুহাইলী পৃ. ১২
[41] উসূল আশ শাশী, নিযামুদ্দীন আশ শাশী, তা: ড. আকরাম নদভী পৃ. ২০৮
[42] দেখুন: উসূলুল ফিকহ আল হানাফি , আয যুহাইলী পৃ. ১৩
[43] দেখুন:মাতনুল মানার, ইমাম নাসাফী, (শামিলা যাহবিয়্যাহ সংস্করণ) পৃ. ৬
[44] তাইসিরু ইলমি উসূলিল ফিকহ, জুদাই’ পৃ. ১৬১
[45] দেখুন: উসূলুল ফিকহ আল হানাফি , আয যুহাইলী পৃ. ১৩
[46] দেখুন: আল মাযাহিব আল ফিকহিয়্যাহ আল আরবায়াহ: আইম্মাতুহা, আতওয়ারুহা, উসূলুহা, আসারুহা পৃ. ২৯-৩০; আল ওয়াজিয পৃ. ১৮১
[47] দেখুন: উসূল আল ফিকহ, শাহ আব্দুল হান্নান, পৃ. ৪০
[48] দেখুন: আল ওয়াজিয পৃ. ১৮১
[49] দেখুন: আবু হানিফা: আরাউহু ওয়া ফিকহুহু পৃ. ৩৯৬