উৎপাদনের উপকরণ : ইসলাম বনাম প্রচলিত অর্থনীতি | সাজ্জাদ হোসাইন খাঁন
প্রচলিত অর্থনীতিতে সম্পদকে সাধারণত উৎপাদনের উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়—যা উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য এবং উৎপাদনের গতিশীলতা সৃষ্টি করে। এভাবে সম্পদের একটি সংকীর্ণ ধারণা তৈরি হয়। অন্যদিকে, ইসলামে সম্পদকে দেখা হয় আরও প্রশস্ত দৃষ্টিকোণ থেকে। ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, সম্পদ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির প্রতি এক অনুগ্রহ ও নিয়ামত। এসব সম্পদ কীভাবে মানবকল্যাণ ও বিশ্বজগতের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়, সেটিই ইসলামের মূল বিবেচ্য। সমাজে অনেক ধরনের সম্পদ বা উৎপাদনের উপাদান রয়েছে, যেগুলো দিয়ে পণ্য উৎপাদন করা হলেও, তা মানবজাতি ও বিশ্বজগতের কোনো কল্যাণে আসে না—বরং ক্ষতিই করে। ইসলামে বৃষ্টিকে একটি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা ভূমিতে সঞ্চারিত হয় এবং আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে উদ্ভিদের জন্ম দেয়। যেমন আল-কুরআনে বলা হয়েছে—
“তিনিই আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, তারপর তা থেকে উদগত করেন সর্বপ্রকার উদ্ভিদের চারা। তারপর তা থেকে উৎপন্ন করেন সবুজ পাতা, তারপর তা থেকে উৎপাদন করেন ঘন সন্নিবিষ্ট শস্যদানা, খেজুর গাছের মাথি থেকে ঝুলন্ত কাঁদি নির্গত করেন, আঙুরের উদ্যান সৃষ্টি করেন এবং যাইতুন ও আনারও।” (সূরা আল-আন’আম, ৬:৯৯)
অর্থাৎ, মানব ও বিশ্বজগতের কল্যাণে যা উপকারী, ইসলামের দৃষ্টিতে তাই-ই প্রকৃত সম্পদ।
কিন্তু পুঁজিবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পদ হলো সেই উপকরণ, যা ব্যক্তিগত মুনাফা (return) অর্জনে সহায়তা করে। অর্থাৎ, কোনো কিছু আপনার জন্য উপকারী হলেও যদি তা মুনাফা না আনে, তবে পুঁজিবাদের দৃষ্টিতে তা সম্পদ নয়। এই মুনাফাকেন্দ্রিক চিন্তা থেকেই মানুষ প্রকৃত কল্যাণকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে। উৎপাদনশীল ভূমিকে পুঁজিবাদ ‘ভূমি’ উপকরণ হিসেবে গণ্য করে এবং শুধুমাত্র উৎপাদনশীলতাসম্পন্ন প্রাকৃতিক সম্পদকেই এর আওতায় ফেলে।
শ্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জিত হয়। তবে এমন অনেক ধরনের শ্রম রয়েছে, যার মাধ্যমে সরাসরি কোনো অর্থ উপার্জন হয় না, কিন্তু তা সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও জীবিকার জন্য শ্রমের বিনিময়ে আয় অপরিহার্য। রাসূল (সা.) বলেছেন—
“নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কেউ কখনো খায় না।” — (বুখারি: ২০৭২)
মূলধন হলো উৎপাদিত সেই উপাদান, যা উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। তবে মূলধনকে পৃথকভাবে নয়, বরং শ্রম ও প্রাকৃতিক সম্পদের সাথে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা উচিত। অর্থনীতিতে ভূমির মূল্য হলো খাজনা, শ্রমের মূল্য মজুরি, মূলধনের মূল্য সুদ এবং সংগঠনের মূল্য মুনাফা। তবে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে মূলধনের মূল্য সুদ নয়, বরং লভ্যাংশ। যদি কোনো ব্যক্তি ভোগের উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ করে, তবে তা বিনা মূল্যে প্রদান করা উচিত। কিন্তু যদি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ঋণ নেওয়া হয়, তাহলে তা থেকে আয় করা যেতে পারে—তবে সেই আয় হতে হবে ঝুঁকি ও ক্ষতির দায় বহনের ভিত্তিতে। ইসলামে সুদ (রিবা) সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ, যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে (সূরা আল-বাকারা ২:২৭৫, সূরা আর-রূম ৩০:৩৯, সূরা আন-নিসা ৪:১৬০–১৬১, সূরা আলে ইমরান ৩:১৩০–১৩১)।
ব্যবসায়ে ব্যক্তি লাভের পাশাপাশি ক্ষতির ঝুঁকিও বহন করে, কিন্তু রিবার ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনুপস্থিত—ঋণদাতা কেবল তার মূলধন এবং সুদ ফেরত দাবি করে। তাই ইসলামে ঋণদাতা কেবল মূলধন ফেরতের অধিকার রাখে, অতিরিক্ত কিছু নয়।
খ্রিস্টধর্মেও সুদ নিষিদ্ধ ছিল। মার্টিন লুথার সুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন এবং খ্রিস্টান আইনবিদদের মতে, যারা সুদকে পাপ নয় বলে দাবি করে, তাদের ধর্মদ্রোহী হিসেবে শাস্তি দেওয়ার পক্ষে মত দেওয়া হয়। ক্যালভিন প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সরল সুদ ও চক্রবৃদ্ধি সুদ-এর মধ্যে পার্থক্য দেখান। তিনি চক্রবৃদ্ধি সুদ নিষিদ্ধ করলেও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সরল সুদ গ্রহণযোগ্য বলে মত দেন। তিনি বলেন, সুদ একটি নির্ধারিত মাত্রার মধ্যে থাকলে তা আইনসিদ্ধ হতে পারে। তবে মুসলিম সমাজ তাঁর এই মতামত প্রত্যাখ্যান করে। ইহুদিধর্মেও রিবা নিষিদ্ধ ছিল। অর্থাৎ, সব প্রধান ধর্মেই রিবা নিষিদ্ধ। সুতরাং এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, রিবার নিষিদ্ধতা বিষয়ে সকল ধর্মই একমত।
ঋণের রিবা
ঋণের ক্ষেত্রে রিবা হলো—যে পরিমাণ ঋণ দেওয়া হয়, তা থেকে অতিরিক্ত পরিমাণ আদায় করা। এই ধরণের রিবা সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি এতটাই সুপরিচিত যে, এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা প্রয়োজন নেই।
রিবা আল-বুয়ু (বিক্রয় রিবা)
এই প্রকার রিবা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বহু হাদীসে আলোচনা করেছেন। পণ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে রিবা আল-বুয়ু দেখা যায়, বিশেষ করে একই ধরণের পণ্য বিনিময়ে যেখানে পরিমাণে বেশি পাওয়ার উদ্দেশ্য থাকে। যেমন: ৫ কেজি নিম্নমানের খেজুরের বিনিময়ে ৪ কেজি উচ্চমানের খেজুর বিনিময় করা। এটি রিবা আল-ফদল নামে পরিচিত। রাসূল (সা.)-এর যুগেও এ ধরণের রিবার প্রচলন ছিল। রিবা নিষিদ্ধ হওয়ার পর এই ধরনের লেনদেন বন্ধ করা হয়। যেমন: খেজুরের বদলে খেজুর, গমের বদলে গম, যবের বদলে যব—সব ক্ষেত্রে সমপরিমাণ হওয়া এবং তাৎক্ষণিক বিনিময় আবশ্যক। বর্তমানে এর উদাহরণ হতে পারে: পুরনো ১২০ টাকার বিনিময়ে নতুন ১০০ টাকার নোট গ্রহণ, যা রিবা আল-ফদলের আওতায় পড়ে।
অন্যদিকে, ভবিষ্যতে একটি পণ্যের বিনিময়ে একই বা ভিন্ন পণ্য বেশি পরিমাণে সরবরাহের শর্তে যে অতিরিক্ত পাওয়া হয়, তাকে বলে রিবা আন-নাসিয়াহ। এটি কিছুটা ডেরিভেটিভস চুক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও এখানে তাৎক্ষণিক বিনিময়ের একক অনুপস্থিত থাকে। এক্ষেত্রে যদি সমান সমান বিনিময় হয়, তবে কোনো আপত্তি নেই।
রিবা সম্পর্কিত বিনিময় নীতিমালা
1. একই পণ্যের বিনিময় : যেমন স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ, গমের বদলে গম—তাহলে সমপরিমাণ ও তাৎক্ষণিক সরবরাহ আবশ্যক।
2. সমজাতীয় ভিন্ন পণ্যের বিনিময় : যেমন যবের বদলে খেজুর বা রূপার বদলে স্বর্ণ—সমপরিমাণ হওয়া জরুরি নয়, তবে তাৎক্ষণিক সরবরাহ আবশ্যক।
3. সম্পূর্ণ ভিন্ন পণ্যের বিনিময় : যেমন খাদ্য ও ধাতব মুদ্রার বিনিময়—এই ক্ষেত্রে কোনো শর্ত নেই; মুক্ত বাণিজ্য অনুসরণ করবে।
এই বিধানগুলো বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয় মুদ্রাভিত্তিক অর্থব্যবস্থায়, যেখানে মূল্য একক স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে এবং রিবার ঝুঁকি কমে। এক হাদীসে উল্লেখ আছে, রাসূল (সা.) বিলাল (রা.)-কে নিম্নমানের দুই একক খেজুরের বদলে এক একক উচ্চমানের খেজুর বিনিময় করতে দেখেন এবং বলেন, “এটা নিঃসন্দেহে রিবা।” তিনি বলেন—
“তুমি যদি ভালোমানের খেজুর কিনতে চাও, তাহলে তোমার খেজুর বিক্রি করে অর্থ লাভ করো, তারপর তা দিয়ে খেজুর ক্রয় করো।”— (বুখারি: ২৩১২) এ থেকে বোঝা যায়, মুদ্রা ব্যবস্থাই অধিক সুবিধাজনক, কারণ পণ্যের বিনিময়ে সমতা বজায় রাখা কঠিন, অথচ মুদ্রায় তা সহজ হয়।
সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার পেছনের যুক্তি
সুদ সমাজে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বাড়ায়। ঋণগ্রহীতা বেশি অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হয়, যা তার ওপর অবিচার হিসেবে প্রতীয়মান হয়। সে পরিশ্রম করে, কিন্তু অধিকাংশ আয় সুদসহ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়ে যায়। তার ভোগ কমে যায়, অথচ ঋণদাতা ঝুঁকি না নিয়েই লাভবান হয়। বিশেষ করে চক্রবৃদ্ধি সুদে (compound interest) একটি সময় আসে, যখন আসলের কয়েকগুণ অর্থ ফেরত দিতে হয়, যা ঋণগ্রহীতাকে দারিদ্র্যের চক্রে আটকে ফেলে। অন্যদিকে, ইসলামে অর্থ উপার্জনের জন্য ঝুঁকি ও শ্রম অপরিহার্য। শুধুমাত্র মূলধনের বিনিময়ে ঝুঁকিমুক্ত উপার্জন ইসলামি মূল্যবোধের পরিপন্থী।
সুদ সমাজের ন্যায়বিচারকে বিপর্যস্ত করে। যেমন একপক্ষ কাজ করবে, ঝুকি ও পরিশ্রম করে আয় উপার্জন করবে অপরপক্ষ শুধু লাভ নিবে কিন্তু কোনো পরিশ্রম করবে না; এটা যথার্থ না। সুদ নিষিদ্ধ হওয়া পুজির মালিকদের পরিশ্রম করতে উৎসাহ প্রদান করে।
فَاِذَا قُضِيَتِ الصَّلٰوةُ فَانْتَشِرُوْا فِى الْاَرْضِ وَابْتَغُوْا مِنْ فَضْلِ اللّٰهِ وَاذْكُرُوا اللّٰهَ كَثِيْرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
অতঃপর যখন নামায সমাপ্ত হয়, তখন যমীনে ছড়িয়ে পড়ো, আর আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করতে থাকো যাতে তোমরা সাফল্য লাভ করতে পারো। (৬২:১০)
সুদ পরোক্ষভাবে সমাজের কিছু সংখ্যক ব্যক্তির হাতে সম্পদ ও পুঁজি পুঞ্জীভূত করে রাখে। একটি গোষ্ঠী কোনো পরিশ্রম বা ঝুঁকি না নিয়েই সম্পদ বৃদ্ধি করতে থাকে। বিক্রয় রিবার ক্ষেত্রে দেখা যায়, নগদ ও বাকিতে পণ্যের দামের পার্থক্য তৈরি হয়। যেমন, কোনো পণ্য নগদে ক্রয় করলে হয়তো ৯৫ টাকা কেজি, আর সেটি বাকিতে কিনলে দাম হয় ১০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা এর কারণ হিসেবে সময়কে সামনে নিয়ে আসে—তাদের মতে, অর্থ পরে পাওয়ার ফলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অর্থের বিকল্প ব্যবহার করতে পারছে না। আধুনিক ফাইন্যান্স শিক্ষায়ও এই যুক্তি অর্থের সময়মূল্য নামে পরিচিত, যার ভিত্তি সুদের ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু শরীয়তের স্পষ্ট প্রমাণ দ্বারা এ ধরনের রিবাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আধুনিক অর্থনীতি উৎপাদনের নিয়ামক হিসেবে সাধারণত চারটি উপাদানকে বিবেচনায় আনে। ইসলাম এই ধারণাটিকে আরো বিস্তৃত করেছে। ইসলামী অর্থনীতিতে পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ, শ্রম ও ব্যবস্থাপনা, পুঁজি, সমাজ এবং আসমানি নির্দেশনা ও নিয়ামত—এই সকল উপাদানকে উৎপাদনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মাধ্যমে ইসলাম কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং সমাজের ন্যায়পরায়ণতা ও ভারসাম্যের দিকটিকেও সমান গুরুত্ব দেয়।
পরিবেশ হলো প্রকৃতি প্রদত্ত একটি নিয়ামক, যা সংরক্ষণ ও সুরক্ষা করা মানুষের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। মানবজাতির বসবাসযোগ্যতা ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পরিবেশকে উপযোগী রাখা আবশ্যক। উৎপাদনের মাত্রা এমন পর্যায়ে নেওয়া উচিত নয়, যাতে মানবজীবন বিপন্ন হয় বা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি, নদ-নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, বায়ু ও জল দূষিত হচ্ছে, যার ফলে মানুষের বসবাসের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। ইসলামী মূল্যবোধ স্পষ্টভাবে বলে যে, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবেশ সংরক্ষণের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
আল্লাহ প্রদত্ত দ্বিতীয় নিয়ামক হলো প্রাকৃতিক সম্পদ। এই সম্পদের সদ্ব্যবহার করা মানুষের দায়িত্ব, যাতে মানবজাতি ও বিশ্বজগতের উপকার সাধিত হয়। ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে, প্রতিটি দেশেই আল্লাহ প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়েছেন, যাতে সেই ভূমির মানুষ তা জীবনোপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে পারে।
মানুষকে আল্লাহ শ্রমের উপযোগী করে সৃষ্টি করেছেন, যাতে সে পরিশ্রমের মাধ্যমে সভ্যতা গড়ে তুলতে পারে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সমাজ-সৃষ্ট চাহিদার ভিত্তিতে পণ্য উৎপাদন করা হয় এবং তা সমাজেই নিশ্চিত করা হয় যেন তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। কোনো পণ্যই এমনভাবে উৎপাদন বা বণ্টন করা যাবে না, যা পরিবেশ, সমাজ বা প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে মুনাফা বা সম্পদের সর্বাধিককরণকে উদ্দেশ্য নয়, বরং ব্যক্তি ও সমাজের উপকার ও কল্যাণ বৃদ্ধি করাকেই লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং, যদি মুনাফা অর্জন হয় কল্যাণ সর্বাধিকরণের মাধ্যমে, তাহলেই তা গ্রহণযোগ্য।
এই প্রেক্ষাপটে উৎপাদনের সকল উপায়, উপকরণ ও নিয়ামককে পরিবেশ, সমাজ, প্রকৃতি, মানবজাতি এবং গোটা বিশ্বজগতের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন আসমানি নির্দেশনার। কারণ, কোথায় প্রকৃত কল্যাণ রয়েছে, তা মানুষ জানে না—এটা একমাত্র স্রষ্টার পক্ষেই নির্ধারণ করা সম্ভব। এজন্য ওহির জ্ঞানকে উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। তাহলেই সম্ভব হবে সত্যিকার অর্থে কল্যাণ সর্বাধিককরণ।